মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ও বিশাল সমাগম প্রসঙ্গ

আপডেট : ১৭ জুন ২০২২, ১০:১৬

আর মাত্র আট দিন পর অর্থাত্ ২৫ জুন বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা বহুমুখী সেতুর উদ্বোধন হইবে। সমগ্র জাতি এই সেতু উদ্বোধনের জন্য অধীর অপেক্ষায় রহিয়াছে। সরকারও পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের জন্য উচ্ছ্বসিত। হইবারই কথা। বহু ঘাম, পরিশ্রম, প্রচেষ্টা ও চ্যালেঞ্জ জড়াইয়া আছে এই সেতুর সহিত। উন্নয়নশীল একটি দেশে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সেতু পদ্মার মতো খরস্রোতা নদীর উপর নির্মাণ করা মুখের কথা নহে। ইহার পাশাপাশি পদ্মা সেতু নির্মাণ করিতে গিয়া নানামুখী বাধাও অতিক্রম করিতে হইয়াছে। সরকারের জন্য শুধু প্রয়োজনীয়তাই নহে, ইহা একপর্যায়ে নির্মাণ করা একটি চ্যালেঞ্জ হইয়া দাঁড়াইয়াছিল। উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষার মাধ্যমে পদ্মা সেতু প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। সেই উদ্যোগের অনেকে হয়তো এখন দৃশ্যপটে নাই; কিন্তু তখন দেশের সরকারপ্রধান ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই। ২০০১ সালের অক্টোবরে নির্বাচনে পরাজয়ের পর এই সেতুর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব মম্হর হইয়া যায়। পরবর্তীকালে ২০০৯ সালে নির্বাচনে বিজয়ের পর মহাজোট সরকার গঠন করিবার মাত্র ২২ দিনের মাথায় পদ্মা সেতুর পূর্ণাঙ্গ নকশা তৈরির জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রায় একই সময়ে সরকার জমি অধিগ্রহণও শুরু করে। আর পিছনে ফিরিয়া তাকাইতে হয় নাই।

এই সেতু চালু হইবার পর ইহার যে আউটপুট পাওয়া যাইবে তাহা লইয়াও আছে দেশবাসীর গভীর স্বপ্ন। কেবল দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার অর্থনীতি, যোগাযোগ হইতে শুরু করিয়া মানুষের যাপিত জীবনে প্রত্যক্ষ পরিবর্তন আনিবে তাহাই নয়, এই সেতু গোটা দেশের এবং বহির্বিশ্বের সহিত যোগাযোগকেও ত্বরান্বিত করিবে। সুতরাং উচ্ছ্বাস থাকাটাই স্বাভাবিক। এই উচ্ছ্বাস হইতেই উদ্বোধনের দিন জনসমাবেশের কথা ভাবিয়াছে সরকার। আমরাও এই সমাগমের সাফল্য কামনা করি। সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বশীল মহল হইতে ধারণা করা হইতেছে, ঐ দিন ১০ লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটিবে। সরকারের পক্ষ হইতে এই লোক সমাবেশ আরো অধিক হইবে বলিয়াও অনুমান করা হইয়াছে। স্বতঃস্ফূর্ত হইয়াও অনেক মানুষ জড়ো হইবে— ইহাতেও সন্দেহ নাই। ফলে সরকারের পক্ষ হইতে সমাবেশের প্রস্ত্ততিও গ্রহণ করা হইতেছে। আবার ইহার সহিত সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা ইহা বলিয়াও সতর্ক করিয়াছেন যে, পদ্মা সেতু লইয়া ষড়যন্ত্র চলিতেছে। এই সমাবেশ এবং পাশাপাশি ষড়যন্ত্র— দুইটি বিষয় ইহার সহিত উচ্চারিত হইলে তাহা আমাদের ভাবাইয়া তোলে। ১০ লক্ষ মানুষ দেশের মোট জনসংখ্যার (পূর্বের আদমশুমারি অনুযায়ী) মাত্র ১ শতাংশের (নির্দিষ্ট করিয়া বলিলে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ) নিচে; কিন্তু এই জনসংখ্যা কম নহে। পৃথিবীর পঞ্চাশের অধিক স্বাধীন একেকটি দেশে লোকসংখ্যা ১০ লক্ষের নিচে। অথচ এত বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হইবেন একটি সেতুকে ঘিরিয়া!

স্বভাবতই নিরাপত্তার প্রশ্নটি আসিবে। ১০ লক্ষ মানুষকে একদিনের একটি অনুষ্ঠানে স্ক্যানিংয়ের আওতায় আনা সম্ভব নহে। কে, কোথা হইতে আসিবে, কাহার পরিচয় কী— তাহাও নজরে রাখা সম্ভব নহে। তাহা হইলে নিরাপত্তা কীভাবে শতভাগ নিশ্চিত করিবেন— তাহা লইয়া সংশ্লিষ্টদের ভাবিতে হইবে। ইহার সহিত আরো একটি বিষয় নজরে রাখা প্রয়োজন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আবার করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বাড়িতে শুরু করিয়াছে। অর্থাত্ এই সংক্রামক ব্যাধি পৃথিবী হইতে পুরাপুরি বিতাড়িত হয় নাই। বাংলাদেশে পরিস্হিতি অনেকটাই স্বাভাবিক থাকিলে কিছুদিন ধরিয়া অল্প অল্প করিয়া বাড়িতেছে। সুতরাং সতর্কতার প্রয়োজন এখনো শেষ হইয়া যায় নাই। আমরা চাই পদ্মা সেতুর উদ্বোধন নির্বিঘ্ন ও আনন্দমুখর হইয়া উঠুক। পদ্মা সেতুর জন্য সার্বিক ও সর্বোপরি শুভ কামনা।

ইত্তেফাক/এসজেড

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

পবিত্র আশুরা: অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের চেতনা

প্রয়োজন সঠিক ব্যবস্থাপনা

পরিণাম সম্পর্কে সচেতন থাকাই উত্তম

অস্তকালে কে থাকিবে দিবাকরের সহিত?

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ষড়যন্ত্র সকল দেশেই হইয়া আসিতেছে

দুশ্চিন্তা কেবল বাড়িতেছেই

মানবতার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই

সংঘাতের নূতন বিশ্বরূপ শঙ্কাজনক