বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

গাইবান্ধায় নদীতে পানি বৃদ্ধি, শুরু হয়েছে ভাঙন

আপডেট : ১৭ জুন ২০২২, ১৯:৩৪

ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গাইবান্ধার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর ভাঙন শুরু হয়েছে। ডুবতে শুরু করেছে গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলার নদীবেষ্টিত ১৬৫ চরের নিম্নাঞ্চলগুলো। চরাঞ্চলের রাস্তাঘাটও ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যাহত হয়ে পড়েছে। তবে কোন নদীর পানি এখনও বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত চব্বিশ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখ পয়েন্টে ৫৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে, তিস্তার পানি সুন্দরগঞ্জ পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৪২ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে ও ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ৩২ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৪২ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া করোতোয়া নদীর পানি বিপৎসীমার ১৮০ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধির কারণে উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের পূর্ব খাটিয়ামারী, মধ্য খাটিয়ামারী, পশ্চিম খাটিয়ামারী, তালতলা, কাউয়াবাধা ও নিশ্চিন্তপুর, উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর, উত্তর উড়িয়া ও জিগাবাড়ী এবং গজারিয়া ইউনিয়নের গলনারচর ও জিয়াডাঙ্গা চর এলাকার নিম্নাঞ্চলগুলো ডুবতে শুরু করেছে। পাশাপাশি নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। গত কয়েক দিনে এসব এলাকার শতাধিক পরিবার নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। 

তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের শিগগিরই ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে।’ 

গাইবান্ধা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শরীফুল আলম বলেন, ‘উপজেলার মোল্লারচর ও কামারজানি ইউনিয়নের বেশকিছু চরের নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট ডুবতে শুরু করেছে। এছাড়া কামারজানি ইউনিয়নের কুন্দেরপাড়া চরে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে।’

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ-আল-মারুফ বলেন, ‘তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে উপজেলার ছোট ছোট চরগুলোর রাস্তাঘাট ডুবে গেছে।’

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু রায়হান বলেন, ‘গাইবান্ধায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। সদর উপজেলার বাগুড়িয়া থেকে কামারজানি পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের বেশ কিছু জায়গা বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওইসব জায়গা দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে।’ 

ইত্তেফাক/এএএম