শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

আসাম ও মেঘালয়ে বন্যার অবনতি, মৃত্যু বেড়ে ১৬

আপডেট : ১৮ জুন ২০২২, ০৫:২০

ভারতের আসাম ও মেঘালয় রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। প্রধান প্রধান নদীগুলোর পানির উচ্চতা বেড়ে গেছে। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা ও ভূমিধসে দুই রাজ্যে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু আসামেই মারা গেছে কমপক্ষে চার জন।

আসামের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্যায় ২৫ জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা অন্তত ১১ লাখে দাঁড়িয়েছে। তারা আরো জানান,

বহু এলাকায় ব্রহ্মপুত্র ও গৌরঙ্গ নদীর পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নবগঠিত বাজালি জেলা। আসাম রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত জেলাগুলোর ১৯ হাজার ৭৮৩ হেক্টর ফসলি জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এ জেলাগুলোর ১৫১০টি গ্রাম ডুবে গেছে। টানা তিন দিন ধরে চলা অবিরাম বৃষ্টিতে আসামের রাজধানী গোয়াহাটিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, এতে পুরো শহরের জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।

নগরীটিতে বেশ কয়েকটি ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত তিন জন আহত হয়েছে। বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে সতর্কতা জারি করে প্রশাসন অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লোকজনকে বাড়ি থেকে বাইরে বের না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। টানা বৃষ্টিপাতে ডিহিং নদীর পানির উচ্চতা বাড়ার পর বুধবার বাকসা জেলার সুবনখাতা এলাকার একটি সেতু আংশিক ধসে পড়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিম্ন আসামের রানগিয়া বিভাগের নালবাড়ি ও ঘোগরাপারের মধ্যবর্তী লাইন ডুবে যাওয়ায় অন্তত ছয়টি ট্রেন যাত্রা বাতিল ও চারটির আংশিক বাতিল করতে হয়েছে। আসামের পাশাপাশি অতি ভারী বৃষ্টিতে প্রতিবেশী মেঘালয় ও অরুণাচলের জনজীবনও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মেঘালয়ে হড়কা বান, বজÌপাত ও ভূমিধসে অন্তত পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রবল বৃষ্টি ও বন্যায় ভারতের ৬ নম্বর জাতীয় মহাসড়কের কিছু অংশ ধসে পড়েছে ও বন্যায় তলিয়ে গেছে। এ কারণে মহাসড়কটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই মহাসড়কটি ত্রিপুরা, দক্ষিণ আসাম, মিজোরাম ও মেঘালয়ের কিছু অংশের যোগাযোগের একমাত্র উপায়। বুধবার আসাম ও মেঘালয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে ২৭২ মিলিমিটার বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ এই দুটি রাজ্যে জারি করা রেড অ্যালার্টের সময়সীমা রবিবার পর্যন্ত বাড়িয়েছে।

আসামের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায়, এখানকার ২৫ জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা অন্তত ১১ লাখে দাঁড়িয়েছে। তারা আরো জানান, বহু এলাকায় ব্রহ্মপুত্র ও গৌরঙ্গ নদীর পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন