জুড়ীতে পানিবন্দি কয়েক হাজার মানুষ

আপডেট : ১৮ জুন ২০২২, ১৮:০৫

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতে ভারতের ত্রিপুরা ও আসাম রাজ্য থেকে জুড়ী নদী হয়ে নেমে আশা ঢলে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার কয়েকটি গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বন্যায় আক্রান্ত ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এসময় ঝুঁকিপূর্ণ টিলার আশপাশের মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জরুরি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।

সরেজমিনে কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, জায়ফরনগর ইউনিয়নের হাকালুকি হাওর পারের পশ্চিম গোবিন্দপুর, কানকৈরচক, হেকিমপুর, মনোহরপুর, সোনাপুর, বেলাগাঁও, শাহপুর, নিশ্চিন্তপুর, ইউসুফ নগর, নয়াগ্রাম ও পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়নের বাছিরপুর, খাগটেকা, কালনীগর, কৃষ্ণনগর গ্রামের বেশির ভাগ অংশ প্লাবিত হওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। 

অনেক গ্রামের রাস্তা ঘাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। নলকূপ তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট চলছে এলাকাগুলোতে। অনেক এলাকায় গো-খাদ্যের সংকটের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে শতাধিক মৎস্য খামার। অনেক খামারি পুকুর পাড়ের চারদিকে প্লাস্টিকের নেট দিয়ে মাছ রক্ষার চেষ্টা করছেন। 

তবে এখন পর্যন্ত বিদ্যুতের কোন সমস্যা নেই জানিয়েছেন পিডিবির উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনসারুল কবির শামীম। তিনি জানান, জুড়ীতে পিডিবির যে সাব-স্টেশন রয়েছে সেখানের অনেক নিচে পানি রয়েছে। আরো ১ ফুটের মতো পানি বাড়লে পাওয়ার সাব স্টেশনে পানি ঢুকতে পারে, এতে করে বিদ্যুৎ বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শনিবার পাহাড় ধসে গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম গোয়ালবাড়ি এলাকার মর্তুজ মিয়ার ঘরে থাকা ২টি গরু, ২টি ছাগল, ২০টির মত হাসঁ মারা যায়। পাহাড়ি টিলার নিচে বসবাসরত এসব মানুষরা দিন কাটাচ্ছেন আতংকে। যেকোনো সময় পাহাড় ধসে বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 
জায়ফরনগর ইউনিয়নের বজিটিলার আশেপাশের মানুষদের জন্য কেবিএহিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে মানুষজনকে সচেতন করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জায়ফরনগর ও পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়নের মানুষের জন্য ১০টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব হলো জায়ফরনগর ইউনিয়নে হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্র, জায়ফরনগর উচ্চ বিদ্যালয়, বেলাগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নে নিরোদ বিহারী উচ্চ বিদ্যালয়, কালনীগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হরিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বশিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জুড়ী কলেজ, আমতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসবের মধ্যে কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে কিছু সংখ্যক মানুষ ইতোমধ্যে আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়াও এসব এলাকার বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি উঠার কারণে এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি বিদ্যালয় ঝুঁকিতে রয়েছে। 

জায়ফরনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়নের বেশির ভাগ গ্রাম বন্যাকবলিত। হাওরপাড়ের ৮টি গ্রাম বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এসব গ্রাম ঘুরে এসেছি, মানুষ অনেক সমস্যার মধ্যে রয়েছে। গৌরিপুর গ্রামে বন্যানিয়ন্ত্রণ রক্ষার জন্য যে বাদ রয়েছে, সেটির পাশ দিয়ে কিছু পানি ডুকছে। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে বালি ভর্তি বস্তা দিয়ে বাধ রক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি