বছরটা শুরু হয়েছিল দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে মুমিনুল হকের নেতৃত্বে নিউজিল্যান্ডে টেস্ট জয়ের ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ দল। শুধু অধিনায়ক নন ব্যাটসম্যান মুমিনুলও ঐ জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। প্রথম ইনিংসে ৮৮, দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ১৩ রান করেছিলেন তিনি।
তারপর ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংস থেকেই মুমিনুলের ব্যাট যেন সুর-তাল-লয় হারিয়ে ফেলল। দ্বিতীয় ইনিংসে শূন্য রানে আউট হন তিনি। ক্রমেই ধূসর হতে শুরু করেছে এই বাঁহাতির ব্যাট। দলের হারের সঙ্গে ব্যাটিংয়ে নাজুক পরিস্থিতির কারণে টেস্ট দলের অধিনায়কত্বই ছেড়ে দিয়েছেন মুমিনুল।
টানা ৯ ইনিংসে দুই অঙ্কের ঘর পার হতে ব্যর্থ ৩০ বছর বয়সি এ ব্যাটসম্যান। যার মধ্যে তিনবার ডাক মেরেছেন। নেতৃত্ব ছেড়েও রানে ফিরতে পারছেন না তিনি। অ্যান্টিগা টেস্টের প্রথম ইনিংসে শূন্য, দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ রান করেন।
সংগত কারণেই বাংলাদেশের একাদশে মুমিনুলের জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেছে। অনেকেই মনে করেন টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ানের কিছুটা বিশ্রাম প্রয়োজন। বিরতিতে পাঠানো উচিত তাকে। যাতে করে ব্যর্থতার স্মৃতি ভুলে সতেজ হয়ে ফিরতে পারেন তিনি।
তবে সেন্ট লুসিয়া টেস্টেই মুমিনুলকে বিশ্রাম দেওয়া হবে কিনা নিশ্চিত নয়। বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বলেছেন, বিরতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে মুমিনুলকেই। তিনি যদি মনে করেন বিরতি দরকার, তাহলে তাকে বিরতি দেওয়া হবে।
খারাপ সময়ে সতীর্থের পাশেই আছেন সাকিব। অ্যান্টিগা টেস্টের পর সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুলের সঙ্গে কথা বলা এবং তাকে বিশ্রাম দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘এটা আমার পক্ষে বলা মুশকিল। যেটা হচ্ছে, ওর সঙ্গে সব সময় কথা হয়। আবার কথা হবে। ও যদি মনে করে ওর বিরতি দরকার আছে, তাহলে হতে পারে। এখন আসলে একটা ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়াটা বা চিন্তা করাটা ভালো কিছু না। আমাদের বিরতি আছে। এরপর যখন সেন্ট লুসিয়ায় অনুশীলন করব, তখন চিন্তা করব আমাদের দলের জন্য কোনটা ভালো হতে পারে।’
অ্যান্টিগায় বাংলাদেশের টপ অর্ডার ছিল পুরোপুরি ব্যর্থ। দ্বিতীয় টেস্টে একাদশে পরিবর্তন হবে কিনা প্রশ্নে সাকিব বলেছেন, ‘খুব বেশি বদলালে যে খুব যে ভালো কিছু হবে, আপনি সেটির গ্যারান্টি দিতে পারবেন না। পরিসংখ্যানের কথা বলছিলাম, ১৩-১৪-১৫ ইনিংসে কতো ইনিংসে ১০০-এর নিচে ৪ বা ৫ উইকেট হারিয়েছি। সে জায়গা থেকে চিন্তা করলে, ওখানে অনেক সমস্যা হচ্ছে। সমন্বিত দলীয় প্রচেষ্টার মাধ্যমেই আসলে আমরা বের হয়ে আসতে পারি এখান থেকে। বের হয়ে আসা সম্ভব বলে বিশ্বাস করি। এ জায়গায় আগেও পড়েছি, বের হয়েও এসেছি। আমার বিশ্বাস আছে আমরা কামব্যাক করতে পারব।’
বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের টেকনিকে সমস্যা আছে মনে করেন সাকিব। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলতে হলে সেটি সামাল দিয়েই ২২ গজে টিকে থাকা এবং রান করার উপায় খুঁজতে হবে সবাইকে।

