সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

গণপরিবহনের দুই রকম চিত্র কেন?

আপডেট : ২২ জুন ২০২২, ১০:১৭

বহু প্রত্যাশা লইয়া কেরানীগঞ্জের ঘাটার চর হইতে রাজধানীর উপর দিয়া নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর পর্যন্ত গত ডিসেম্বরে ৫০টি বাস নামাইয়া চালু হইয়াছিল ঢাকা নগর পরিবহন। তখন ঢাকা দক্ষিণের মেয়র আশা প্রকাশ করিয়াছিলেন, এই রুটে আরো ১০০টি বাস যুক্ত হইবে। সেই সঙ্গে আরো তিনটি নতুন রুটের কথাও ভাবা হইয়াছিল। অবশ্য রুটভিত্তিক কোম্পানির অধীনে বাস চালুর উদ্যোগটি প্রথম গ্রহণ করিয়াছিলেন উত্তরের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক। কথা ছিল, ক্রমান্বয়ে ঢাকার পুরাতন, জরাজীর্ণ গণপরিবহন সরাইয়া বিভিন্ন রুটে ৪ হাজার নতুন বাস নামানো হইবে। এবং একটি রুটে একটি কোম্পানির অধীনে চালানো হইবে, যাহাতে বাসে বাসে প্রতিযোগিতা না হয় এবং শৃঙ্খলা আনা যায়। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের খানিকটা উদ্যোগ গত ডিসেম্বরে নেওয়া হইলেও ছয় মাস যাইতে না যাইতেই তাহা মুখ থুবড়াইয়া পড়িয়াছে। বিআরটিসির ৩০টি এবং বেসরকারি ২০টি বাস লইয়া যাত্রা শুরু করিলেও এখন সেই ২০টি বাস বন্ধ হইয়া গিয়াছে। উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা কিন্তু খুবই ভালো ছিল। যেইখানে-সেইখানে না থামা, টিকিট ছাড়া বাসে না তোলা, অন্য বাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা না করার কারণে যাত্রীদের কাছে জনপ্রিয়ও হইয়াছিল। কিন্তু কী কারণে ইহা বন্ধ হইয়া যাইবার পথে তাহা সরেজমিনে গভীরভাবে খুঁজিয়া দেখা প্রয়োজন। এই রুটের কোথায় দুর্বলতা তাহা খুঁজিয়া না বাহির করিলে সামনে যে আরো কয়েকটি রুটে বাস নামাইবার পরিকল্পনা রহিয়াছে তাহা ব্যর্থ হইতে পারে।

কেন এই রকম হয়? ইহার পূর্বে ঢাকার যানজট নিরসনের জন্য ওয়াটার বাস চালু করা হইয়াছিল। ঢাকার মতো একটি মেগা সিটিতে রেলপথ, পানিপথ এবং সড়কপথ কাজে না লাগাইতে পারিলে যানজট হইতে মুক্তি পাওয়া খুবই দুষ্কর। আমরা খুবই সৌভাগ্যবান ছিলাম যে ঢাকার চারিপাশে রহিয়াছে নদীপথ। কিন্তু কাজে লাগিল না। বহু প্রত্যাশা লইয়া গাবতলী হইতে সদরঘাট, টঙ্গী হইতে নারায়ণগঞ্জ এবং বুড়িগঙ্গা পার হইবার জন্য ওয়াটার বাস চালু করা হইয়াছিল। কিন্তু তাহা প্রায় শুরুতেই ব্যর্থ হইয়াছে। ১২টি ওয়াটার বাসই বর্তমানে অকেজো হইয়া পড়িয়া আছে। সরকার এই প্রকল্পের পিছনে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয় করিয়াছে। ২০১১ সালে ইহা ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হইয়াছিল। কিন্তু তাহা আর অগ্রসর হয় নাই।

আবার একই সঙ্গে আমরা দেখিতে পাই, ২০১৬ সালে চালু হওয়া গুলশান-নতুন বাজার বনানী রুটে চালু হইয়াছে ঢাকা চাকা। তাহা বহাল তবিয়তে চলিতেছে। শুধু তাহাই নহে, ঢাকা চাকার পর চালু হইয়াছে গুলশান চাকা। তাহাও সমানতালে চলিতেছে। ১০টি বাস দিয়া চালু হইয়া ঢাকা চাকা এখন আরো সম্প্রসারিত হইয়াছে। ইহা ভাবিয়া দেখিতে হইবে যে পার্থক্যটা কোথায়, সমস্যাটা কোথায় এবং গলদটা কোথায়! উন্নয়নশীল বিশ্বে আমরা প্রায়ই লক্ষ করি, বহু জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ, বিশেষ করিয়া সরকারের উদ্যোগ যত্নের অভাবে, সচেতনতার অভাবে সফল হইতে পারে না। এই সকল দেশে ব্যক্তিমালিকানাধীন উদ্যোগ যতটা কার্যকর দেখা যায় ততটা কার্যকর হইতে পারে না সরকারি সেবামূলক উদ্যোগ। বুঝিতে কোনো অসুবিধা নাই যে দায়িত্বজ্ঞান ও শৃঙ্খলার অভাব, সঠিক ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা এই সকল অসফলতার প্রধান কারণ। কিন্তু যাহাদের উপর দায়িত্ব অর্পিত হয় তাহাদের জবাবদিহির আওতায় কেন আনা যায় না? এই সকল বিষয় ভাবিয়া দেখা এবং যথাযথ ব্যবস্থা লওয়া প্রয়োজন।

ইত্তেফাক/এসজেড

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ধন্য তাহার জীবন

আছে খরার আঘাতও

‘অসময়ে হায় হায় কেউ কারো নয়’

‘অসময়ে হায় হায় কেউ কারো নয়’

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এই আচরণের ব্যত্যয় ঘটাইতে হইবে

টিকিয়া থাকিতে চাওয়া মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি

পবিত্র আশুরা: অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের চেতনা

প্রয়োজন সঠিক ব্যবস্থাপনা