বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট ২০২২, ৩ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

একজন সার্জেন্টের সংগ্রহে ৪০০ প্রজাতির ক্যাকটাস   

আপডেট : ২২ জুন ২০২২, ১৮:২৪

সার্জেন্ট তৌহিদুল ইসলাম রাসেলের ছোটবেলা থেকেই গাছের প্রতি ভালোবাসা ছিল। লেখাপড়ার পাশাপাশি রাসেলের গাছ লাগানো ও পরিচর্যা করা ছিল প্রধান নেশা। ছেলেবেলায় সবাই যখন খেলাধুলা করতো, রাসেল তখন গাছ নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউটসে যুক্ত থাকাকালীন সময় একাধিকবার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিজ হাতে গাছ লাগান। 

ছোট থেকেই তার ছিল গাছের প্রতি ভালোবাসা, যা পরবর্তী সময়ে রূপ নেয় ক্যাকটাস সংগ্রহে। শখের বশে নিজ বাড়ির ছাদ এবং বাড়ির পেছনের বাগানের ৬টি শেডে এখন তার সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৪০০ প্রজাতির ক্যাকটাস। তার ছাদবাগানে এখন ৪০০টি প্রজাতির প্রায় ৪০ হাজারেরও বেশি ক্যাকটাস। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে গাছ প্রেমীরা তার বাড়িতে ভিড় জমান। সার্জেন্ট তৌহিদুল ইসলাম রাসেল কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ১৬ দাগ পশ্চিমপাড়ার আলহাজ্ব রহমত উল্লাহ’র ছেলে। 

তৌহিদুল ইসলাম রাসেল বর্তমানে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সার্জেন্ট হিসাবে কর্মরত আছেন। অফিস থেকে ছুটি পেলে ছুটে আসেন তার প্রিয় কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ১৬দাগ পশ্চিমপাড়ার নিজস্ব ক্যাকটাস ছাদ বাগানে। নিজবাড়ির ছাদ ও বাড়ির পেছনের বাগানে ৬টি শেডে ইসমাইল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ক্যাকটাস বাগান শুরু করেছেন।

সার্জেন্ট তৌহিদুল ইসলাম রাসেল জানান, ছোটবেলা থেকেই গাছের প্রতি ভালোবাসা ছিল। সেই থেকে সংগ্রহ করতেন বিভিন্ন গাছ। নতুন প্রজাতির ক্যাকটাস উদ্ভাবন ও রক্ষণাবেক্ষণে অফিস ছুটি পেলে নিজ বাগানে ছুটে আসেন তিনি। এ মরু উদ্ভিদ টিকিয়ে রাখতে পলিথিনের শেড নির্মাণ, গাছের কাঁটা পর্যবেক্ষণ ও মাটি পরিবর্তনসহ বিভিন্ন যত্ন নেন। 

তিনি বলেন, ‘বাসায় এসে প্রথমে ছাদে যাই। ছাদ থেকে ঘরে যেতে রাত ১টা বেজে যায়। তারপরেও শখের বসে চলছে আমাদের এই ক্যাকটাস বাগান। বীজ উৎপাদন, সেখান থেকে নতুন প্রজাতির ক্যাকটাস উদ্ভাবন, সেইসঙ্গে ক্যাকটাসের জন্য পলিথিনের শেড নির্মাণ, গাছের কাঁটা পর্যবেক্ষণ, মাটি পরিবর্তন-সবই করি নিজেরাই। তবে প্রথমদিকে এই মরু উদ্ভিদকে বশে আনতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ভারতীয় এক সংগ্রাহকের পরামর্শে আসে সফলতা। আগামীতে ক্যাকটাসের এই সংগ্রহশালাটি ২ হাজার প্রজাতিতে উন্নীত করার চেষ্টা করছি। সেইসঙ্গে এটিকে বাণিজ্যিকভাবে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও আছে।’

তৌহিদুল ইসলাম জানান, ভবিষ্যতে তারা কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় একটি ক্যাকটাস পার্ক গড়ে তুলতে চান। যেখানে দেশ-বিদেশের মানুষ এসে ক্যাকটাসের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। প্রথম গাছ আমদানি করেছেন ভারত থেকে। পরে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, চীন ও আমেরিকা থেকেও ক্যাকটাস আমদানি করেছেন। বর্তমানে তাদের কাছে প্রায় ৪০ হাজার বীজও রয়েছে।

সার্জেন্ট তৌহিদুল ইসলাম রাসেলের বাবা আলহাজ্ব রহমত উল্লাহ বলেন, ‘আমার ২ ছেলে ১ মেয়ে। তার মধ্যে রাসেল স্কুলে পাড়াশুনার পাশাপাশি তার নেশা বিভিন্ন প্রজাতির গাছসহ ক্যাকটাস সংগ্রহ করা। ২০১৯ সালে এই ক্যাকটাস বাগান শুরু করে। চাকরি পাওয়ার পর ক্যাকটাস সংগ্রহ আরও বেশি শুরু করে। ক্যাকটাস সম্পর্কেও তার জানাশোনাও অনেক ভালো। ছুটিতে বাড়িতে আসলে সে গভীর রাত পর্ষন্ত নিজ হাতে গাছ পরিচর্যা করে থাকে।’ 

ভেড়ামারা সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান শামীম বলেন, ‘সার্জেন্ট তৌহিদুল ইসলাম রাসেলের মতো আমি গাছ ভালোবাসি। তার ক্যাকটাসের বাগান দেখে আগ্রহটা আরও বেশি বেড়েছে। সশরীরে দেখতে এসেছি। এসে খুবই ভালো লাগল। এত কালেকশন আমি আমার জীবনেও দেখিনি।’

ভেড়ামারা হাসপাতালের ডা. মাহামুদুর রহমান ইসরাফিল বলেন, ‘সার্জেন্ট তৌহিদুল ইসলাম রাসেল ক্যাকটাস গাছ ও তার কাটাগুলোকে অনেক সৌন্দর্যমণ্ডিত করে তুলেছেন। আমরা যদি মানুষের গুণগুলোকে এমন করে সাজাতে পারতাম, তাহলে সমাজটা কত সুন্দর হতো!’

ইত্তেফাক/মাহি