অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি)-এর জাতীয় বাজেট ২০২২-২৩ এর ওপর আলোচনা। মঙ্গলবার (২১ জুন) রাজধানীর হোটেল শেরাটনে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইসিএসবি এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আজিজুর রহমান এফসিএস। আইসিএসবি কাউন্সিল সদস্য মো. শফিকুল আলম এফসিএস, চেয়ারম্যান, সেমিনার ও কনফারেন্স সাব কমিটি জাতীয় বাজেট ২০২২-২৩ এর উপর মূল বক্তব্য প্রদান করেন। ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট মোজাফফর আহমেদ এফসিএস অধিবেশনে তার সমাপনী বক্তব্য রাখেন।
আলোচনা অধিবেশনে সাবেক এবং বর্তমান সরকারী কর্মকর্তা, কর্পোরেট নেতা, অর্থনৈতিক খাতের বিশেষজ্ঞ, পেশাদার ইন্সটিটিউট ও অ্যাসোসিয়েশনসমূহের প্রধানগণ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মো. শফিকুল আলম এফসিএস তার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ও বাজেটের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ তুলে ধরেন। প্যানেল বক্তারা নতুন বাজেটের কিছু প্রস্তাব এবং কর্পোরেট সেক্টরের উপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। প্রস্তাবিত বাজেটে ২৪৫০ কোটি টাকার বিশাল ঘাটতি রয়েছে বলে বক্তারা মতামত পেশ করেন। কোভিড-১৯ পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের প্রভাব এবং দেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বড় চাপের কারণে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ বিবেচনা করলে এই বাজেট অর্জন করতে সরকারের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হবে।
বক্তাগন উল্লেখ করেন যে, প্রস্তাবিত বাজেট কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত শ্রেণীর করদাতাদের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্যানেলিস্টরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সমূহের উপর ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড (ডব্লিউপিপিএফ) এর উপর কর আরোপের প্রস্তাব নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন। তারা তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, এই বিলটি পাস হলে যাদের উপর বাংলাদেশের শ্রম আইনের ডব্লিউপিপিএফ বিধান প্রযোজ্য তাদের উপর বিশাল আর্থিক প্রভাব ফেলবে।
বক্তারা উল্লেখ করেন যে, এই বিধানটি বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ধারা ২৪৪ এর সাথে সাংঘর্ষিক যা ডব্লিউপিপিএফ-এর জন্য বরাদ্দকৃত তহবিল কর্তনকে অনুমোদন দেয় এবং একই সাথে এটি দ্বৈত করের অবস্থা সৃষ্টি করে। আলোচনায় উল্লেখ করা হয় যে, অর্থমন্ত্রী বলেছেন যে ডব্লিউপিপিএফ- ট্যাক্সের মুনাফা থেকে প্রদেয়, যা ডব্লিউপিপিএফ এর প্রকৃত আচরণ এবং দর্শনের সাথে মিলে না। অ্যাকাউন্টিং নীতি অনুসারে, ডব্লিউপিপিএফ-ট্যাক্সের মুনাফা থেকে প্রদেয়। এটি বৈদেশিক বিনিয়োগ এর উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, কারণ, সম্ভাব্য বিদেশী বিনিয়োগকারীরা দ্বৈত করের এই অযৌক্তিকতার কারণে বিনিয়োগে অনিচ্ছুক হবে। আলোচনাকারীরা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়াতে আমাদের প্রতিযোগীদের বিবেচনায় রেখে কর্পোরেট ট্যাক্সের পাশাপাশি ব্যক্তিগত কর পুনর্গঠনের পরামর্শ দেন। বক্তারা বিদেশী ও স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার সুপারিশ প্রদান করেন।
আলোচনাকারীদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক চার্টার্ড সেক্রেটারি (সিএস)গণ উপস্থিত ছিলেন। তারা উল্লেখ করেন যে, ব্যবসা পদ্ধতি সহজ করার জন্য তাদের একটি একক প্ল্যাটফর্মে পরিসেবা প্রদানের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা রয়েছে এবং শিল্পখাতে বিনিয়োগকারী স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের সমর্থন করার সুপারিশ করেছে। সিএস-এর বহুমুখী সহায়ক ভুমিকা রয়েছে, যা পরিবেশ ছাড়পত্র, কারখানা এবং প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স, ট্রেড মার্ক ইস্যু, বিএসটিআই লাইসেন্স, আরজেএসসি সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়গুলিতে বিশেষ সহায়তা প্রদান করতে পারেন। তাই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহকে চার্টার্ড সেক্রেটারিগনের পরিসেবাসমূহ, বিশেষভাবে ভ্যাট এবং কাস্টমস পরামর্শ নেয়ার জন্য ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করতে হবে।
এম. শহীদুল হক, সাবেক সিনিয়র সচিব, বাংলাদেশ সরকার, প্রফেসর ড. এম. হারুনুর রশীদ, সভাপতি, বাংলাদেশ একাউন্টিং এসোসিয়েশন, কে. এইচ. মাসুদ সিদ্দিকী, সাবেক সচিব, বাংলাদেশ সরকার, শাহাদাত হোসেন এফসিএ, প্রেসিডেন্ট, ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ বাংলাদেশ, হোসেন সাদাত এফসিএস, পরিচালক, গ্রামীণফোন, আকতার মতিন চৌধুরী এফসিএস, এফসিএ, আইসিএসবি-এর কাউন্সিল সদস্য এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টর-ইউসিবি, মো. লুৎফর রহমান, সাবেক সদস্য, এনবিআর, মো. শামসুল কিবরিয়া, ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, যুগ্ম সচিব-বাজেট, অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়, উজ্জল বিকাশ দত্ত, সাবেক সদস্য, বিপিএসসি, শীষ হায়দার চৌধুরী, সদস্য, বাংলাদেশের ট্যারিফ কমিশন প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
