বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

চট্টগ্রামে বাণিজ্যিক গুদামে রাখা হচ্ছে কেমিক্যাল দ্রব্য

আপডেট : ২৩ জুন ২০২২, ০৭:০০

চট্টগ্রামে বাণিজ্যিক গুদামগুলোতে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্য মজুত রাখা হয়। গুদামে পাশাপাশি আমদানি করা প্রচুর রাসায়নিক দ্রব্য মজুত রয়েছে। কাটু‌র্ন, বস্তা ও ড্রাম ভর্তি করে রাসায়নিক পণ্য গুদামে মজুত রাখা হয়ে থাকে। কিন্তু এসব বাণিজ্যিক গুদামে রাসায়নিক পণ্য মজুতে সরকারিভাবে নির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা নেই। কাটু‌র্ন, বস্তা ও ড্রাম ভর্তি করে যত্রতত্রভাবে রাসায়নিক পণ্য গুদামে মজুত রাখা হচ্ছে। ফলে এসব রাসায়নিক পণ্য গুদামে লোড ও আনলোড করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রামে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রায় ১ হাজার ২০০ পণ্য মজুতের গুদাম রয়েছে। নগরীর মাঝিরঘাট, নাসিরাবাদ, হালিশহর, পতেঙ্গা, চাক্তাই ও সীতাকুণ্ডে এসব বাণিজিক গুদামের অবস্থান। বন্দর ও মাঝিরঘাট দিয়ে খালাস করা পণ্য বাণিজ্যিক গুদামে রাখা হয়। অনেক আমদানিকারকের নিজস্ব গুদাম নেই। তারা আমদানি করা পণ্য বাণিজ্যিক গুদামে মজুত করেন। পরে সুবিধামতো সময়ে বিক্রিত মাল গুদাম থেকে ডেলিভারি দেওয়া হয়।

এসব বাণিজ্যিক গুদামের নিরাপত্তার জন্য কোনো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় না। এলোমেলো যত্রতত্রভাবে পণ্য মজুত রাখা হয়। রয়েছে জরাজীর্ণ বিদ্যুৎ তার। নিজস্ব অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই পণ্য মজুতের গুদামগুলোতে। অগ্নিনির্বাপণে জন্য থাকে ফায়ার এস্টিংগুইশার। জরুরি সময়ে এসব অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা নেই গুদামের শ্রমিকদের। গুদামে অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি আমদানি করা রাসায়নিক দ্রব্যও রাখা হচ্ছে। এতে কিছু তরল, পাউডার জাতীয় রাসায়নিক দ্রব্য রয়েছে। গুদাম মালিকরা জানান, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ গুদামে রাসায়নিক দ্রব্য রাখছে। গুদামগুলোতে বর্তমানে প্রচুর রাসায়নিক দ্রব্য মজুত রয়েছে। কিন্তু রাসায়নিক দ্রব্যগুলো সংরক্ষণে কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে না। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম গুদাম মালিক সমিতির সভাপতি শফিক আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ বাণিজ্যিক গুদামগুলোতে অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি কেমিক্যাল জাতীয় দ্রব্য রাখছি। কিন্তু সীতাকুণ্ডে কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর আমরা গুদাম মালিকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। সরকারিভাবে গুদামে কেমিক্যাল জাতীয় পণ্য রাখার কোনো নীতিমালা নেই। আমদানিকারকরা খালাসের পর গুদামে রাখছে। তাই সরকারিভাবে বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত বলে আমরা মনে করছি।’

ফায়ার সার্ভিসসহ প্রশাসনের অন্য কোনো সংস্থার বাণিজ্যিক গুদাম নিয়ে তেমন নজরধারী নেই। অনেক গুদাম ঘনবসতি পূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। ফলে গিঞ্জি এলাকায় অবস্থানের কারণে কোনো দুর্ঘটনার সময় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ জটিল হয়ে পড়বে। বাণিজ্যিক গুদাম নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কোনো তালিকা নেই। তবে গুদামের জন্য ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স গ্রহণে বাধ্যবাধকতা রয়েছে। জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন সিকদার ইত্তেফাককে বলেন, বাণিজ্যিক গুদামের সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। এখন আমরা এসব গুদামের তথ্য সংগ্রহ করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

ইত্তেফাক/ইআ