শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২, ১৭ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সিরাজগঞ্জে বন্যায় তলিয়ে গেছে ফসলি জমি

আপডেট : ২৪ জুন ২০২২, ০৩:১৪

ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে জেলার অভ্যন্তরীণ নদনদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে জেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

স্হানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বন্যায় জেলায় ৯ হাজার ১০৬ হেক্টর জমির পাট, তিল, কাউন, গ্রীষ্মকালীন মরিচ, বিভিন্ন ধরনের সবজি, রোপা আমন বীজতলা বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এতে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে এই ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করছে বন্যাকবলিত কাজীপুর, সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি, চৌহালি ও শাহজাদপুর উপজেলার কৃষকরা।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদের জানান, বন্যায় তার তিন বিঘা জমির পাটখেত তলিয়ে গেছে। তিনি জানান, তিন বিঘা জমি চাষ করতে সব মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। এখন এসব ফসল পানিতে ডুবে আমার সর্বনাশ হয়ে গেল। বড়পিয়ার চরের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, দুই বিঘা জমিতে পাট ও পাঁচ বিঘা জমিতে তিল ছিল। সব বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। আর কিছুদিন গেলেই তিল ও পাট কাটা যেত। কাজীপুরের নাটুয়াপাড়া চরের কৃষক জেল হক জানান, এ বছর পাঁচ বিঘা পাট ও দুই বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছিলাম।

এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রোস্তম আলী জানান, সদর উপজেলায় ৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি বন্যাকবলিত হয়েছে। বন্যার পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে পরবর্তী ব্যবস্হা নেওয়া হবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বাবুল কুমার সূত্রধর জানান, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার পাঁচটি উপজেলার নিম্নাঞ্চলের ৯ হাজার ১০৬ হেক্টর জমির আউশ ধান, রোপা আমন বীজতলা, পাট, তিল, কাউন, বাদামসহ উঠতি ফসল নষ্ট হয়েছে।

এদিকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বুধবার সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার পুঠিয়াবাড়ি, চরমালশাপাড়া কালিয়াহরিপুর ইউনিয়নের চররামগাঁতী, পাইকপাড়া, মোড়গ্রাম, সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব মোহনপুর, পূর্ব বাঐতারাসহ বাঁধের অভ্যন্তরে বিভিন্ন এলাকা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে পানীয় জল ও তীব্র জ্বালানি সংকট। এতে চরম দ~র্ভোগে পড়েছেন বন্যাকবলিত এলাকার হাজার হাজার মানুষ।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, গত দুই দিনে সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি এক সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপত্সীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান জানান, বানভাসি মানুষের মধ্যে চাল, নগদ অর্থ ও শুকনা খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, ১০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার এবং ১ হাজার বান্ডিল ঢেউটিনের চাহিদা জানিয়ে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

‘নেত্রকোনায় বন্যায় ভেসে গেছে ১২ কোটি টাকার মাছ’ 

হবিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত

নাগেশ্বরীতে কমছে নদ-নদীর পানি

বন্যার্তদের সহায়তায় সিলেট ও সুনামগঞ্জে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সিরাজগঞ্জে বিলুপ্তির পথে মাটির ঘর

সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনায় ভারী বৃষ্টিতে দীর্ঘস্থায়ী বন্যার আশঙ্কা

বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই করছে আত্রাই নদীর পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

আবারও বৃষ্টি-পাহাড়ি ঢলে আতঙ্কে সুনামগঞ্জ