বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট ২০২২, ৩ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

জমি লিখে নিয়ে মাকে ‘ঘর থেকে বের করে দেন’ বড় ছেলে

ঠাঁই হলো পরিত্যক্ত দোকানে

আপডেট : ২৪ জুন ২০২২, ০৫:১৯

মায়ের জমি নিজের নামে লিখে নিয়ে সেই বৃদ্ধা মাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া খানাবাড়ী গ্রামের মাহাবুব আলম মৃধা (৫০) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। জানা গেছে, এ অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করায় তিন বোন, ছোট ভাই, বোন জামাতা ও ভাগনেদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন তিনি। ঘর থেকে বের করে দেওয়ার পর বৃদ্ধা মা হালিমা বেগম (৮২) নলচিড়া বাজারে থাকা তার মৃত স্বামীর একটি পরিত্যক্ত দোকানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

স্হানীয়রা জানিয়েছেন, নলচিড়া গ্রামের শাহজাহান মৃধা গত ২০ বছর আগে মারা যান। তিনি মারা যাওয়ার আগে তার স্ত্রী হালিমা বেগমের নামে ৬৪ শতক জমি লিখে দিয়েছেন। বৃদ্ধ হালিমা বেগম জানিয়েছেন, স্বামীর মৃতু্যর পর তিনি তার বড় ছেলে মাহাবুব মৃধার কাছে থাকতেন। পুত্র মাহাবুব চাপ সৃষ্টি করে তার নামের ৬৪ শতক জমি নিজের নামে লিখে নিয়েছে। পরবর্তী সময় গত চার দিন আগে তাকে তার স্বামীর ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। তিনি (হালিমা বেগম) বলেন, আমি আমার স্বামীর ভিটায় ফিরে যেতে চাই। এ জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। 

বৃদ্ধার ছোট পুত্র মমিন মৃধা অভিযোগ করেন, মায়ের নামের জমি লিখে নেওয়ার প্রতিবাদ করায় বড় ভাই মাহাবুব মৃধা তাকেসহ (মমিন) তার তিন বোন এবং বোন জামাতা, ভাগনেসহ ১০ জনকে আসামি করে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ এনে বরিশালের আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। বর্তমানে মাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। 

হালিমা বেগমের বড় মেয়ে আকলিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, বড় ভাই মাহাবুব মৃধা চাপ সৃষ্টি করে মায়ের নামের জমি লিখে নিয়েছেন। এ নিয়ে নলচিড়া ও বাটাজোর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে, নলচিড়া বাজার পরিচালনা কমিটি, গৌরনদী থানায় কয়েক দফা সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সালিশ বৈঠকে বসে বড় ভাই সালিশগণের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার পরে তা অমান্য করে আসছে।

অভিযুক্ত মাহাবুব মৃধা সাংবাদিকদের জানান, জোর করে নয়, মা আমাকে স্বেচ্ছায় সাবকবলা মূলে জমি দলিল দিয়েছে। মাকে আমি বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেইনি। সে নিজেই বাড়ি থেকে চলে গেছে। তবে নলচিড়া বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি বাদশা ফকির ও সাধারণ সম্পাদক রতন মিয়া বলেন, বৃদ্ধ হালিমা বেগমকে তার বড় ছেলে মাহাবুব মৃধা স্বামীর ভিটা থেকে বের করে দেওয়ার পর তিনি বাজারে থাকা স্বামীর একটি দোকান ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন।

তারা আরো বলেন, ইতিমধ্যে বাজার কমিটির পক্ষ থেকে মাহাবুব মৃধার সঙ্গে যোগাযোগ করে তার মাকে ঘরে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু তিনি (মাহাবুব) কারো কোনো কথা শুনছেন না। বিষয়টি নিয়ে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপিন চন্দ্র বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি অমানবিক। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্হা নেওয়া হবে। 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি