শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

চট্টগ্রামে পাহাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে গতি নেই

আবারও ঝুঁকিপূর্ণ বাসস্হানে ফিরছে মানুষ

আপডেট : ২৪ জুন ২০২২, ০৭:৩০

চট্টগ্রামের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে অবৈধ স্হাপনা উচ্ছেদের কাজে গতি নেই। সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন স্হানে পাহাড়ধসে বেশ কয়েকজন হতাহত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। শুরু হয় পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ স্হাপনা উচ্ছেদ ও বাসিন্দাদের নিরাপদ স্হানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ। সরকারি হিসাবে গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি পাহাড়ের ২০৫টি অবৈধ স্হাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে চমক দেখানো সূচনা করেও আবার থমকে গেছে পাহাড়ের অবৈধ স্হাপনা অপসারণের উদ্যোগ।

বৃহস্পতিবার নগরীর বায়েজিদ-ভাটিয়ারি লিংক রোডের বড়ইতলি এলাকায় একটি অবৈধ স্হাপনা অপসারণ করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এছাড়া গত কয়েক দিনে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে আর কোনো উল্লেখযোগ্য অভিযান হয়নি। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে সেখানকার পুরানো বাসিন্দারা আবার পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ বাসস্হানে ফিরে যাচ্ছেন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘২৮টি পাহাড় ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গ্যাস ও ওয়াসার প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন পাহাড়ে তাদের কোনো সংযোগ নেই। তবে বিদু্যতের কিছু সংযোগ রয়েছে। আমরা বিদু্যতের সংযোগগুলো অপসারণ করার চেষ্টা করছি। পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসকারী ভূমিহীনদের সরকারি পদ্ধতিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় পুনর্বাসন করার চেষ্টা করছি।’

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ১৭টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে ৮৩৫টি পরিবার বসবাস করছে। অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণভাবে ব্যক্তিমালিকানাধীন ১০টি পাহাড়ে অবৈধভাবে বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা ৫৩১। সরকারি বিভিন্ন সংস্হার মালিকানাধীন সাতটি পাহাড়ে অবৈধ বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা ৩০৪। এসব পাহাড়ে বসবাসকারীর মানুষের সংখ্যা ৫ হাজারের অধিক। রেলওয়ের জায়গায় অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা ৩ হাজার বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা সুজন চৌধুরী।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসন যেসব জায়গায় অবৈধ স্হাপনা উচ্ছেদ করেছে তার বেশির ভাগই রেলওয়ের জায়গা। পাহাড়গুলো রেলওয়ের পাহাড়। এখানে থাকা স্হাপনা উচ্ছেদ করে আমরা রেলওয়েকে বুঝিয়ে দেই। এরপর দেখা যায় কিছু লোক আবার সেখানে বসবাস করতে চলে আসে। আমরা এখন কঠোর অবস্হানে রয়েছি। পরবর্তী সময়ে যদি দেখা যায় কেউ সেখানে অবস্হান করার জন্য বা পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্হায় ঘর-বাড়ি তৈরি করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলাসহ কঠোর শাস্তির ব্যবস্হা করা হবে।

জানা গেছে, ২০০৭ সালের ১১ জুন নগরীর বিভিন্ন স্হানে ভয়াবহ পাহাড় ধসে নগরীর কুসুমবাগ ও ভাটিয়ারি এলাকায় ১২৭ জনের মৃতু্য হয়। পরের বছর লালখান বাজার টাঙ্কি পাহাড়ে ভূমিধসে মারা যায় ১১ জন। ২০১৭ সালে মারা যান ৩০ জন। এ সপ্তাহের শুরুতে নগরীর দুটি স্হানে পাহাড়ধসে পাঁচ জন মারা গেছে। এরই মধ্যে চলছে পাহাড়ে প্লট বানিয়ে লোকজনের কাছে বিক্রি করছে একটি চক্র। এতে স্হানীয় রাজনীতিবিদ, পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। পাহাড় কাটার কারণে বালু ছড়িয়ে পড়ে নালা-নর্দমাগুলো ভরাট হয়ে নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। একই কারণে কর্ণফুলী নদীও নাব্য হারাচ্ছে। পাহাড় কাটা বন্ধে টাস্ক ফোর্স গঠন করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা এবং বিশেষ ট্রাইবু্যনাল গঠন করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি করছেন বিশিষ্টজনেরা।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি