শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

২০০ কোটি টাকার সড়কের ১০০ ফুট দেবে গেছে

আপডেট : ২৭ জুন ২০২২, ০৪:০৪

সড়ক নির্মাণে অন্যত্র থেকে মাটি নিয়ে এসে রাস্তা নির্মাণের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু নওগাঁ সওজের সাবেক প্রকৌশলী হামিদুল হকের যোগসাজশে বরাদ্দের টাকা হরিলুট করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক সড়ক নির্মাণে তা করেনি। দায়সারা গোছের নিম্নমানের কাজ করেছে। ফলে এই সড়কের শাহাগালো বাজার এলাকায় শুক্রবার রাতে এবার ৪ ফুট গভীরতায় প্রায় ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যের রাস্তা দেবে গেছে। বৃষ্টিপাত আরো বেশি হলে সড়কের অনেক এলাকাই দেবে ও ধসে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। দ্রুত এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নওগাঁ সওজ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁর সাথে সড়ক পথে ঢাকা ও দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ সহজ করতে নওগাঁ-নাটোর রেল লাইন ঘেঁষে রেলওয়ের সম্পত্তির ওপর দিয়েই নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক সড়ক নির্মাণে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় প্রস্তাব পাঠায় নওগাঁ সওজ বিভাগে। ২০০৫ সালে নওগাঁ থেকে নাটোর ৪৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়ক নির্মাণে প্রথম পর্যায়ে ৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরপর কিছু কাজ শেষে অর্থের অভাবে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীকালে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এই সড়ক নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১৯৮ কোটি ৯৭ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। নওগাঁর ১৯ কিলোমিটারের অংশে চারটি প্যাকেজে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১৩৪ কোটি টাকা। সড়কের পাশ থেকে মাটি না কেটে সড়ক নির্মাণে জন্য অন্য জায়গা থেকে মাটি নিয়ে আনার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ২০ কোটি টাকা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, সড়ক নির্মাণে অন্যত্র থেকে মাটি নিয়ে আসার সরকারি বরাদ্দ থাকলেও তৎকালীন সওজের প্রকৌশলী হামিদুল হকের যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন অন্যত্র থেকে মাটি না এনে সড়কের পাশে ১৫ থেকে ২০ গভীর করে মাটি কেটে তুলে সড়ক নির্মাণসহ অন্যান্য নিম্নমানের কাজ শুরু করে। এলাকাবাসী এর প্রতিবাদ করলেও তড়িঘড়ি করে মাটি ভরাট করে। ফলে কাজ চালমান অবস্থাতেই শুক্রবার আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা বাজারের উত্তর পাশে প্রায় ১০০ ফুট সড়ক ৩/৪ ফুট গভীর হয়ে সড়ক দেবে গেছে। বর্ষা মৌসুমে আরো বেশি সড়কের অংশ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। আগেও একাধিকবার সড়ক ধসে পড়েছে। এ নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও কর্তৃপক্ষ কঠোর হয়নি।

তারা আরো জানান, দেবে যাওয়া অংশে সড়ক নির্মাণের সময় পাঁচ বার ধসে যায় মাটি। এর একটু উত্তর পাশে অরেক অংশে সাত বার সড়ক ধসে যায়। শাহাগোলা স্টেশনের দক্ষিণ পাশেই গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ১০০ ফিট সড়ক ধসে যায়। কিন্তু সে সময় সওজের কর্তারা নীরব ভূমিকা পালন করায় তড়িঘড়ি করে নাম মাত্র কাজ করে সম্পন্ন করেছেন।

ডেবে যাওয়া অংশের কাজ করে ঢাকার আরবিএলএএস জন নামে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।

রাণীনগর উপজেলা পরিষদের ভাইস (নারী) চেয়ারম্যান ফরিদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক সড়ক নির্মাণে সরকার কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগের যোগসাজশে নিম্নমানের সড়ক নির্মাণকাজ চলছে। সড়ক সঠিকভাবে নির্মাণসহ এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

নওগাঁ সওজ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে দীর্ঘ ছয় বছর নওগাঁ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেন প্রকৌশলী হামিদুল হক। সে সময় সড়কের মাটি ভরাট করা হয়। এরপর ২০২০ সালের ১৯ অক্টোবর নওগাঁ থেকে তিনি বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। ফলে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

২০২০ সালের ১৯ অক্টোবর নওগাঁ সওজের প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন সাজেদুর রহমান। তিনি জানান, জায়গাটি রেল বিভাগের। মাটি অন্যত্র থেকে নিয়ে এসে সড়ক নিমার্ণের জন্যে নওগাঁর অংশে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও মাটি কোথা নিয়ে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে তা জানেন না। তবে সড়কের নিচে গভীর করে খনন করা মাটি দেখলে বোঝা যায় এটি নতুন খনন। তিনি যোগদানের আগেই সড়কের মাটির কাজ শেষ হয়েছিল।

অপর প্রশ্নে তিনি আরো বলেন, দেবে যাওয়া সড়কের কারিগরি দিকটা দেখার পাশাপাশি ঠিকাদারদের নিজ খরচে মেরামত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের জুন মাসে সড়ক নির্মাণ কাজের মেয়াদ শেষ হবে।

ইত্তেফাক/ইআ