সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

রাজধানীতে জ্বর-সর্দির প্রকোপ বাড়ছে

আপডেট : ২৭ জুন ২০২২, ১৭:৩১

কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছেন রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার আরিফ রহমান। জ্বরের সঙ্গে সর্দি-কাশি-মাথা ও শরীরে ব্যথা। দু’দিনের মাথায় তার এক বছরের শিশুও জ্বরে আক্রান্ত হয়। এরপর একে একে আরিফের মা ও তার স্ত্রী জ্বরে আক্রান্ত হন। ইত্তেফাক অনলাইনকে আরিফ রহমান বলেন, ‘চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পর করোনা টেস্ট ও ডেঙ্গু টেস্ট দেওয়া হয়। পরীক্ষা করানোর পর সবই নেগেটিভ আসে। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি নাকে এন্টাসল নাজাল ড্রপ দেওয়া হয়েছে। এখন জ্বর না থাকলেও কাশি ও শারীরিক দুর্বলতা রয়ে গেছে।

রাজধানীর আরেক বাসিন্দা লিন্দা হক জানান, তার ছেলের পর মেয়ে ও স্বামী সর্দি-কাশি-জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। জ্বর ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের নিচে নামছে না কারও। কাশিও রয়েছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন-এটি সিজনাল জ্বর-ঠান্ডা, চার-পাঁচ দিন পর কমবে। 

আরিফ রহমান ও লিন্দা হকের মতো রাজধানীর অনেক পরিবারে জ্বর-সর্দির প্রকোপ দেখা দেখা গেছে। রাজধানীতে জ্বর-সর্দির প্রকোপ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। জ্বর-সর্দি নিয়ে হাসপাতালে প্রচুর রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। 

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বশির আহমেদ ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘জ্বর-সর্দি-কাশির তীব্রতা থাকছে তিন থেকে সাত দিন পর্যন্ত। জ্বর সেরে গেলেও শুকনো কাশি, দুর্বলতা ভোগাচ্ছে অনেককে। অন্যান্য ইনফ্লুয়েঞ্জার মতোই এটি। একসঙ্গে পরিবারের একাধিক সদস্য জ্বর-সর্দি-কাশিতে ভুগছেন। অনেকের গলাব্যথাও হচ্ছে।’ বিচলিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘জ্বর কিংবা ঠান্ডা, গলা খুসখুস মানেই করোনা নয়। জ্বর হলে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।’ 

রাজধানীতে প্রতিদিন বাড়ছে জ্বর, সর্দি, কাশি, শরীর ব্যথা নিয়ে আসা রোগীর ভিড়। কেউ আবার বাসায় বসে ঘরোয়া চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে এ উপসর্গগুলো ব্যাপক হারে দেখা দিচ্ছে। দেশে দিন-রাতের তাপমাত্রা বাড়ছে-কমছে। এই রোদ এই বৃষ্টি। এই গরম, এই ঠান্ডা। খেয়ালি এই আবহাওয়ার সঙ্গে বাড়ছে সর্দি-কাশি-জ্বরের মতো মৌসুমি রোগ। সাধারণত সন্ধ্যার পর থেকে গরম-গরম ভাব দেখে অনেকেই ঘরে ফ্যান বা এসি চালিয়ে রাখছেন। রাতে ঘুমানোর সময়েও তা বন্ধ করা হয় না। 

চলতি বছরের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে সর্দি-জ্বরের প্রকোপ শুরু হয়েছে। তবে গত তিন সপ্তাহে তা কয়েকগুণ বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী অন্তত ৫০টির অধিক পরিবারের সদস্যরা জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত হয়েছেন। এমন তথ্য দৈনিক ইত্তেফাক অনলাইনের কাছে রয়েছে।

রাজধানীতে জ্বর-সর্দির প্রকোপ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে জ্বর-সর্দি-কাশি নিয়ে প্রচুর রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। হাসপাতালের আউটডোরে বেশিরভাগ শিশুই জ্বর-সর্দি-কাশি নিয়ে আসছেন। হাঁচি-কাশির সঙ্গে শরীরে তীব্র ব্যথাও হচ্ছে। মূলত ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে এ উপসর্গগুলো ব্যাপক হারে দেখা দিচ্ছে। সাধারণ মানুষ, শিশু ও গর্ভবতী মাসহ সব বয়সীই এতে কাবু হচ্ছেন।’ 

নিজ থেকে কোনো ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘যথাযথ চিকিৎসার সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি, ফলমূল, শাক-সবজি খেতে হবে। নিজে থেকে ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক খেলে সমস্যা বাড়তে পারে।’

এদিকে, ঘরে ঘরে জ্বরের মধ্যেই সম্প্রতি সময়ে করোনা শনাক্ত রোগী আগের দিনগুলোর তুলনায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার নতুন ধরনের দাপটে সংক্রমণ বাড়ছে। এ কারণে হঠাৎ করে জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। তবে সংক্রমণ অনেকটাই মৃদু। তাই অধিকাংশ মানুষের হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন পড়ছে না।

ইত্তেফাক/এএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

১৫ই আগস্ট উপলক্ষে উন্মুক্ত লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে আলোক প্রজ্জ্বলন ও মিলাদ আয়োজন

বউভাত শেষে বাড়ি ফেরা হলো না তাদের

পাসপোর্ট অধিদফতরে জাতীয় শোক দিবস পালন

ক্রেন থেকে গার্ডার ছিটকে নিহত ৪

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

চকবাজারে কারখানায় আগুন: ৬ জনের লাশ উদ্ধার

আইইবিতে জাতীয় শোক দিবস পালন 

চকবাজার পলিথিন কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ছাত্রলীগের শ্রদ্ধা