বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ব্যস্ত রাজবাড়ীর কামার পল্লী

আপডেট : ২৮ জুন ২০২২, ১১:৫২

পুড়ছে কয়লা, জ্বলছে লোহা। রাজবাড়ী সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খানখানাপুর বড় বাজারের কামার পল্লী এখন লোহা হাতুড়ির টুং-টাং শব্দে মুখরিত। হাতুড়ির আঘাতে তৈরি হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনে কাজের উপযুক্ত সামগ্রী, দা, বটি, চাকু, কুড়াল, ছুরি, চাপাতিসহ ধারালো সব যন্ত্রপাতি।

আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আজাহা (কোরবানি)’র ঈদকে সামনে রেখে রাজবাড়ী সদর, গোয়ালন্দ, পাংশা, কালুখালী ও বালিয়াকান্দির প্রায় সকল হাট-বাজারেই ব্যস্ত সময় পাড় করছেন কামার পল্লীর শ্রমিকরা।

সারা বছর কাজ সীমিত থাকলেও কোরবানির ঈদের এ সময়টাতে বেড়ে যায় তাদের কর্মব্যস্ততা। একদিকে কোরবানির ব্যস্ততা অন্য দিকে এ জেলার অধিকাংশ মাঠ জুড়ে বেড়ে উঠছে সোনালী ফসল পাট। পাট কাটার কাচি তৈরি হচ্ছে প্রায় প্রত্যেক দোকানেই।

সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, শহরের কামারপট্টি, খানখানাপুর কামার পট্টি, কোলার হাট কামার পট্টি বাজারসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে এসব সরঞ্জাম তৈরি করা হচ্ছে। সবগুলো কামারের দোকানে বিদ্যুৎ চালিত শান মেশিন ব্যবহার করে অল্প সময়ে অধিক কাজ করছেন কামাররা। শান দেওয়া হচ্ছে লোহার তৈরি পুরাতন সরঞ্জাম গুলোতে। তৈরিকৃত এসব লোহার পণ্য বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে। অপরদিকে বাড়িঘরে পড়ে থাকা দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত (ভোতা) দা, ছুরি, বটি কোরবান উপলক্ষে সানাই দিতে মানুষ নিয়ে আসছে কামারের দোকান গুলোতে।

খানখানাপুর বড় বাজার, দাদশী বাজার, কোলার হাট, বানীবহ বাজার, বহরপুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন দামে ছুরি, বঁটি, চাপাতি বিক্রি হচ্ছে দোকানগুলোতে। প্রতি পিছ চাকু ১০০-২৫০ টাকা, দা ৪০০-৬০০ টাকা, ৫০০ টাকা কেজি দরে চাপাতি, জবাই ছুরি ৮০০-১২০০টাকা এবং বটি ৩০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকাচ্ছে দোকানিরা। এছাড়াও পুরনো সকল যন্ত্রপাতি শান দিতে গুনতে হচ্ছে ১০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত।

খানখানাপুর কামার পট্টির দুলাল কর্মকার, বল্লভ কর্মকার সহ একাধিক কামাররা জানান, প্রতি মঙ্গলবার ও শুক্রবার সপ্তাহের দুই দিন হাটবার। সারা বছর টুকটাক বেচাকেনা হয়ে থাকে। প্রতি বছর কোরবানির ঈদের আগে এক সপ্তাহ ভালো বেচাকেনা হয়। আশা করি ঈদের আগে দুই সপ্তাহের মধ্য আরও ৪টা হাট বার পাবো।

কোলার হাটের কামার মনোজ কর্মকার বলেন, কোরবানির ঈদ এখনও প্রায় ১৩দিন বাকী। এখন আমরা কোরবানিতে ব্যবহৃত চাকু, ছুরি, চাপাতি ইত্যাদি তৈরি করে রাখতেছি। বেচাকেনা শুরু হয়নি। ঈদের ৪/৫দিন পূর্ব থেকে পুরোদমে বেচাকেনা শুরু হবে।

রাজবাড়ীর কামারপট্টির কামারা রাত-দিন পরিশ্রম করে এসব সরঞ্জাম তৈরি করছেন। তবে ঈদের বেশ কিছুদিন বাকি থাকায় কামার পট্টিতে এখনও ক্রেতাদের তেমন দেখা যাচ্ছে না। যদিও দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বেচাকেনা জমে উঠবে বলে প্রত্যাশা কামারদের। 

ইত্তেফাক/এমআর