শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

উন্নতি দেখছেন পাপন

প্রাণপণ চেষ্টার পরও ব্যর্থ টাইগাররা

আপডেট : ২৮ জুন ২০২২, ১২:০২

দেখতে দেখতে টেস্ট ক্রিকেটে ২২ বছর কাটিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রায় দুই যুগ কাটিয়ে দিলেও এই ফরম্যাটে বাংলাদেশ দলের ধুঁকতে থাকা ছবিটা যেন স্হায়ী হয়ে গেছে। জীর্ণ-শীর্ণ পারফরম্যান্সের মিছিল শেষ হচ্ছে না। ধারাবাহিকভাবেই ব্যাটিং লাইন ধ্বংসস্তূপে রূপ নিচ্ছে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে বরাবরের মতোই টেস্ট সিরিজে ব্যর্থ টাইগাররা। অ্যান্টিগায় প্রথম টেস্ট হেরেছে ৭ উইকেটে, সেন্ট লুসিয়ায়ও একই পরিণতি। অ্যান্টিগায় প্রথম ইনিংসে মাত্র ১০৩ রানে অলআউট হয় সাকিব আল হাসানের দল। চার বছর আগে (২০১৮ সাল) ক্যারিবিয়ানে দুই টেস্টে বিধ্বস্ত হয়েছিল বাংলাদেশ।

তখন প্রথম টেস্টে ৪৩ রানে অলআউট হয়েছিল সাকিব বাহিনী, যা এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর। দুই টেস্টেই তিন দিনে হেরেছিল সফরকারীরা।

চলতি সফরে দুই ম্যাচই চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। আগের তুলনায় রানও একটু বেশি হয়েছে। কিন্তু সার্বিক অবস্হান মিলে আশাবাদী হওয়ার কিছুই নেই।

যদিও ২০১৮ সালের তুলনায় এবারের সফরে দলের পারফরম্যান্সে উন্নতি দেখছেন বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। গত রবিবার রাতে সিসিডিএম অ্যাওয়ার্ড নাইটে তিনি বলেছেন, ‘এই যে আমাদের দল ওয়েস্ট ইন্ডিজে গেলো, আমরা অবশ্যই চাইব আমাদের দল জিতুক। কিন্তু আমরা যদি মনে করি ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়ে দল হেরে গেলে দলের খুব খারাপ অবস্হা হবে, এটায় কিন্তু আমি একমত নই। সারা জীবন তো হেরেই আসছি! বরং প্রথম টেস্টের কথা যদি বলি, শেষবার যখন গিয়েছি ২০১৮ সালে, তার চেয়ে এবারের পারফরম্যান্স ভালো। অবশ্যই এটা আমার কাছে একটা উন্নতি।’ যদিও বাংলাদেশের পেসার খালেদ আহমেদ বলছেন, দলের সবার চেষ্টার কমতি নেই। পারফর্ম করার সর্বোচ্চ চেষ্টায়ও ব্যর্থ হচ্ছেন তারা। সেন্ট লুসিয়ায় ম্যাচের তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের সেরা বোলার খালেদ। ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৫ উইকেট পান তিনি।

দিনের খেলা শেষে খালেদ বলেছেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটে হয়তো আমাদের ভালো সময় যাচ্ছে না। তবে সামনে অনেক সময় আসবে, অনেক ভালোভাবে হবে। সবাই জানপ্রাণ দিয়ে চেষ্টা করছে, নিজেকে কীভাবে আরো ভালোভাবে মেলে ধরা যায়।’ তবে অদূর ভবিষ্যতে ভালো সময় আসবে বলে আশা করছেন ২৯ বছর বয়সী এই পেসার।

প্রথম ইনিংসে ২৩৪ রান করেছিল বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনের লাঞ্চের পর ৪০৮ রানে অলআউট হয় উইন্ডিজরা। ১৭৪ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাটিংয়ে নেমে আবারও চিরাচরিত ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে টাইগাররা। রোচদের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি তামিম-সাকিবরা। রীতিমতো ত্রাস ছড়িয়েছেন ক্যারিবিয়ান ফাস্ট বোলাররা। তামিম ৪, সাকিব ১৬, লিটন ১৯, শান্ত ৪২, জয় ১৩ রান করেন।

ব্যাটারদের এমন আত্মসমর্পণে উন্নতির রেখা খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন।

ইত্তেফাক/টিএ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন