শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সুনামগঞ্জে পানি কমলেও ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা

এখনও জেলার সঙ্গে ৪ উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

আপডেট : ২৮ জুন ২০২২, ১৮:০০

সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির বেশ উন্নতি  হয়েছে। সুরমা নদীর পানি গত কয়েক দিন ধরে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে এখনও অনেক সড়ক পানির নিচে ডুবে রয়েছে। বানের জলে জেলার প্রধান সড়কগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে অনেক সড়ক। 

বন্যার পানিতে সড়ক ভেঙে জেলা সদরের সঙ্গে এখনও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে দোয়ারা বাজার, জামালগঞ্জ, জগন্নাথপুর ও ছাতক উপজেলার।  অনেক সড়কের ভাঙা স্থানে সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। ফলে দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভোগ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দ্বিতীয় দফা ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত হয়েছিল সুনামগঞ্জ জেলার সব রাস্তাঘাট-ঘরবাড়ি। সারা দেশের সঙ্গে সুনামগঞ্জ জেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল ৫ দিন। সেইসঙ্গে জেলা সদরের সঙ্গে জেলার সব উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। 

বন্যা পরিস্থিতির উন্নতিতে শান্তিগঞ্জ ও তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ চালু হলে এখনও জামালগঞ্জ, দোয়ারাবাজার, ছাতক ও জগন্নাথপুর উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। অনেক সড়ক ভেঙে খালের মত হয়ে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে । সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তিন লক্ষাধিকেরও বেশি মানুষ । শুধু তাই নয় অনেক সড়কে পায়ে হেঁটে চলাচলই কষ্টকর হচ্ছে।

লালপুর এলাকার বাসিন্দা মনির মিয়া বলেন, বন্যার পানিতে রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মানুষ হেঁটেই চলাচল করা খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে। রাধানগর এলাকার বাসিন্দা আমির উদ্দিন  বলেন, আমাদের ঘর বাড়িত বন্যার পানিতে বাসিয়ে নিয়ে গেছে এখন যে রাস্তা দিয়ে চলাচল করব সেটারও সুযোগ নেই। একজন রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে যেতে সে মরে যাবে।

পলাশ এলাকার বাসিন্দা লিলু মিয়া বলেন, ঘর বাড়ি সব কিছু বানের জলে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।  এখন রাস্তা থেকে পানি কমেছে। পানি কমলে কি হবে রাস্তা ঘাটে গাড়ি গুড়া চালাতে পারছি না। সব রাস্তা ভেঙে তছনছ হয়ে গেছে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা বাসিন্দা ইমরান মিয়া  বলেন, অটোরিকশা চালিয়ে ছেলে মেয়ের মুখে খাবার তুলে দেই। কিন্তু বন্যার পানি রাস্তা ঘাট গুলো এতটা ভেঙেছে যে মানুষ ওই হেটো যেতে পারছে না আর যানবাহন কি ভাবে চালাব।

সড়ক ও জনপথ এবং এলজিইডির দাবি অনুযায়ী, জেলার প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার সড়কের পুরোটাই বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। এতে প্রায় ১৮শ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও অনেক সড়ক এখনও পানির নিচে রয়েছে। সড়ক থেকে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর সড়ক মেরামত করা হবে।

এলজিইডির সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম বলেন, বন্যায় সড়কের  নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ৪৫৭১ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ১৫০০ কোটি টাকা। এখনও অনেক সড়ক পানির নিচে রয়েছে।

সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন, ৩৫৬ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ১৮৪ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্তত ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে এখানে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি