শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মুম্বাই হামলার মাস্টারমাইন্ড সাজিদকে নিয়ে পাকিস্তানের ‘নাটক’  

আপডেট : ২৯ জুন ২০২২, ১৯:০৪

বেশ কয়েকটি এশিয়ান মিডিয়ার মতে, মুম্বাই সন্ত্রাসী হামলার মাস্টারমাইন্ড এবং লস্কর-ই-তৈবা (এলইটি) এর একজন সিনিয়র সদস্য সাজিদ মিরকে অনেকটা নীরবেই সাজা দিয়েছে পাকিস্তান। কিন্তু পাকিস্তানের এই তথ্য নিয়ে একটি সমস্যা আছে। কেননা পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, সাজিদ মির ২০১৬ সালে মারা যায়। 

২০০৮ সালের নভেম্বরে মুম্বাই হামলায় ১৬৬ জন নিহত হয়, আহত হয় ৩০০ জনের বেশি। সে সময় থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত সাজিদ মিরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালায়। তবে পাকিস্তানি নেতারা জানায়, সাজিদ মির ২০১৬ সালা মারা গেছে। তবে পাকিস্তানের এই কথা বিশ্বাস করেনি আমেরিকান গোয়েন্দারা।  

খবরে বলা হয়েছে, আমেরিকার ধারণা ঠিকই। স্পষ্টতই সাজিদ মির 'পুনরুত্থিত' হয়েছে ও 'সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন' করার জন্য শাস্তি পেয়েছে। যেমনটি পাকিস্তানের অন্যান্য সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রে হয়েছে। তবে এটা এখনো পরিষ্কার নয় সাজিদ মিরকে পাকিস্তানের কোন আদালত সাজা দিয়েছেন। এছাড়া এই নিয়ে তেমন কোনো তথ্যও নেই।

সাজিদ মিরকে মৃত ঘোষণা করার পেছনে পাকিস্তানের উপযুক্ত কারণ ছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সাজিদ দেশের বাইরে ধরা পড়লে, তিনি হয়তো লস্কর-ই-তৈবা এবং পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের মধ্যে সন্দেহজনক সংযোগ নিশ্চিত করতেন। 

তবে সাজিদকে  জীবিত ঘোষণা এবং এখন কারাগারে সাজা দেওয়ার জন্য পাকিস্তানের কাছে আরও ভাল কারণ রয়েছে। আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ) অর্থ-পাচার এবং সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোচনায় প্রতিষ্ঠিত একটি আন্তঃসরকারি সংস্থা।  

পাকিস্তান বহুদিন ধরেই এফএটিএফ-এর ধূসর তালিকায় ছিল। তবে সেই ‘ধূসর তালিকা’ থেকে পাকিস্তানকে সরানো হতে পারে। এজন্য এফএটিএফ দল পাকিস্তান সফর করবে। 

পাকিস্তান সাজিদ মিরকে রক্ষা করছে দেশটির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আছে এফএটিএফ-র। এছাড়া সাজিদের মৃত্যু নিয়ে গুজব রটানোর অভিযোগ আছে। তাই পাকিস্তান এখন সাজিদকে মৃতের থেকে জীবিত ও তার সাজার ব্যাপারে জানালেই বেশি উপকৃত হবে। 

 

 

 

ইত্তেফাক/এসআর