শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

আতঙ্কে এলাকাবাসী

কাউনিয়ায় তিস্তার ভাঙনে ঘরবাড়ি কৃষিজমি বিলীন

আপডেট : ৩০ জুন ২০২২, ০৭:৩০

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের হরিচরণ শর্মা গ্রামের তিস্তা নদীর তীরের বাসিন্দা ছালেহা বেগম (৬০)। যার এখন তিস্তা নদীর ভাঙনের প্রতিটি রাত কাটে নির্ঘুম অবস্থায়। 

ছালেহা বেগম বলেন, প্রতি রাতেই ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটে। তিস্তা নদী পাড়ের ছালেহা বেগমের মতো রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের হরিচরণ শর্মা, চরগনাই, হয়বত খাঁ, আজম খাঁ, চর বিশ্বনাথ গ্রামের তিস্তা নদী তীরবর্তী সবাই একই আতঙ্কে ভুগছেন। বুধবার সকালে তিস্তা নদীর ভাঙনকবলিত ঐ গ্রামগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ভাঙনের আতঙ্কে কেউ ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন, কেউ গাছ কাটছেন। 

উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের চর গনাই গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ বছর তিস্তার ভাঙনে এই এলাকার কয়েকটি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। সেই সঙ্গে নদীগর্ভে আবাদি জমি, গাছপালা বিলীন হয়ে গেছে। তারা এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। একই এলাকার হোসেন আলী নামের এক ব্যক্তি সবকিছু হারিয়ে নদীর কাছেই একচালা ঘর তুলে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। 

তিনি বলেন, সারা রাত ঘুমাতে পারি না। তিস্তা নদী সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। কখন যে এই বাড়িটাও নেয়, ভাঙনের ভয়ে দিন কাটাচ্ছি। এ বিষয়ে তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের কাউনিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান বলেন, নদী ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. তাহমিনা তারিন ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

টেপামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম বলেন, এ বছর তিস্তা নদীর ভাঙনের ফলে তার ইউনিয়নের হরিচরণশর্মা, চর গনাই, বিশ্বনাথসহ কয়েকটি গ্রামের ২২টি বাড়িসহ প্রায় ২৫ একর জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। তিনি বলেন, সরকারি কোনো সহায়তা না পাওয়ায় এলাকার লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে নদীভাঙন রোধে বাঁশের খুঁটি দিয়ে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছি।

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা তারিন ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। টেপামধুপুর ইউনিয়নের হরিচরণ শর্মা, চর গনাই, বিশ্বনাথসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় ২২টি বাড়িসহ প্রায় ২৫ একর জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। বুধবার থেকে ভাঙন ঠেকাতে তিস্তা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২৫০টি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ভাঙনকবলিত মানুষের মাঝে ২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সোমেশ্বরী নদীর বেড়িবাঁধে ভাঙন

ঝিনাইগাতী (শেরপুর) সংবাদদাতা জানান, ঝিনাইগাতী উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর আয়নাপুরে বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজারসহ দুটি গ্রাম হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে দুই গ্রামের শত শত মানুষ। গত ৯ জুন ঢলের পানি প্রবেশ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার দুটি গ্রামের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। কাংশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, বেড়িবাঁধটি সংস্কারের অভাবে ভাটি এলাকার হাজারো মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থায় দিন পার করছেন। এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী শুভ বসাক বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সাড়া পাওয়া গেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/এমএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন