বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বাংলাদেশে কর্মরত চীনা কোম্পানিগুলো অবৈধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২২, ১১:৫৯

বেশ কিছু চীনা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিশেষ করে নির্মাণ খাতে সঙ্গে জড়িত, তারা জাল নথি ছাপানোর পাশাপাশি নিষিদ্ধ জিনিসপত্রের ব্যবসায়সহ অসাধু কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই বছরের মে মাসে, হ্যাংঝো ইউনিয়ন বায়োটেকনোলজি কো লিমিটেড (HUBcoL) নামে একটি চীনা কোম্পানির বিরুদ্ধে একটি মামলার প্রতিবেদন করা হয়েছিল। যা মূলত বাংলাদেশে নিষিদ্ধ জিনিস রপ্তানির চেষ্টা করার জন্য। যেগুলো খাদ্য সংযোজন এবং ফার্মাসিউটিক্যাল সামগ্রীতে নিযুক্ত হয়েছে।

হ্যাংঝো ইউনিয়ন বায়োটেকনোলজি কো লিমিটেড কোম্পানি ঢাকা ভিত্তিক সহযোগীদের একজনকে সোডা অ্যাশ লাইটের একটি চালান পাঠানোর কথা ঘোষণা করেছিলো।

তবে শারীরিক পরীক্ষায় বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ১৯ টন (৭৮৮ প্যাকেট) সোডিয়াম সাইক্লামেট (এসসি) উদ্ধার করেছে। এই সোডা অ্যাশ লাইটের লেবেল বড়ই উদ্বিগ্নকর।

চালানটি চীনের সিএনটিএও কিংডাও বন্দর থেকে উদ্ভূত হয়ে চট্টগ্রামে পৌঁছেছিল। এসসি মূলত এক ধরনের ঘনীভূত চিনি যা সাধারণের চেয়ে ৩০ থেকে ৫০ গুণ বেশি মিষ্টি।

তবে বাংলাদেশ সরকার এসসিকে অবৈধ ও নিষিদ্ধ পন্য হিসেবে ঘোষণা করেছে। তাই, এসসি-এর রপ্তানি/আমদানি, উৎপাদন বা ব্যবহার যেকোনো রূপে দেশে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অন্যদিকে, এসসি সেবন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।  

চাইনিজ কোম্পানি এইচবিসিও লিমিটেড বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য মিথ্যা ঘোষণা দিয়েছিল।

বাংলাদেশে চীনা কর্মকর্তাদের দুর্নীতির আরেকটি মামলায়, কক্সবাজারের টেকনাফের সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে বালি ভরাটের ঠিকাদার হিসেবে কাজ করা চাইনিজ হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির (সিএইচইসি) একজন কর্মকর্তাকে প্যানেলভুক্ত করা হয়েছে। আড়াই লাখ টাকা জরিমানা ও বালু ভরাটের কাজে অবৈধভাবে বিক্রির দায়ে ৪ জুন বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে চীনা কোম্পানি ও কর্মকর্তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ডের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ২০২১ সালের ডিসেম্বরের শুরুতে, কর্তৃপক্ষ দেখতে পায় যে বাংলাদেশে সড়ক ও সেতু নির্মাণে নিয়োজিত চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কনস্ট্রাকশন (সিআরবিসি) কোম্পানি সরকারি প্রকল্প থেকে নির্মাণ সামগ্রী আমদানি করার সময় কর ফাঁকির সাথে জড়িত ছিল।

২০২২ সালের জানুয়ারিতে, চীনা কোম্পানি ডিজি অ্যান্টি ফেক কোম্পানি কথিতভাবে নকল ব্যান্ডরোল (বিড়ি এবং সিগারেটের প্যাকেটের উপর মোড়ানো একটি পাতলা ফিতা) সরবরাহ করেছে। যা করতে গিয়ে ২৫০ কোটি টাকার কর ফাঁকি ও জালিয়াতি হয়েছে। যা বাংলাদেশের জন্য বিশাল ক্ষতি।

কর ফাঁকির আরেকটি মামলায়, তিয়ানি আউটডোর, একটি সাবসিডিয়ারি চীনা কোম্পানি কোমিফ্লাই আউটডোর কোম্পানি লিমিটেড প্রায় ২১ কোটি টাকা কর ফাঁকি ও জালিয়াতির সাথে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপরোক্ত অসদাচরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে চীনা কোম্পানির কার্যক্রমের উপড় নিরপেক্ষ পর্যালোচনার নিশ্চয়তার প্রয়োজন রয়েছে। এবং এই ধরনের মামলা প্রতিরোধ করার জন্য বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে কর্পোরেট আইনি কাঠামো শক্তিশালী করতে হবে ও তা প্রয়োগ করতে হবে।

ইত্তেফাক/টিআর