জাতীয় সংসদে একনেক ও এডিপির একাধিক প্রকল্পের গতিধারা, গতিশীলতা ও ব্যয় পুনর্মূল্যায়ন নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন উপজেলার আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করতে প্রকল্প সমন্বয়, অতিরিক্ত ব্যয় হ্রাস এবং মেট্রোরেলসহ গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কাজ চলছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি।
একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, গঙ্গা চুক্তির নবায়ন এবং তিস্তা প্রকল্পে চীনের সঙ্গে কারিগরি মূল্যায়ন শুরু করার বিষয়ে সরকারের সাম্প্রতিক নানা কৌশলী পদক্ষেপ তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী।
সংসদের নির্ধারিত প্রশ্নোত্তরে ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলার উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি। তিনি জানান, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে ১ হাজার ৩৩৩টি চলমান প্রকল্পের পাশাপাশি সংশোধন প্রক্রিয়ায় নতুন করে ১ হাজার ১৬৫টি প্রকল্প যুক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। একই সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো আরও ১ হাজার ২৭০টি প্রকল্প যাচাই-বাছাইয়ের প্রাথমিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সব মিলিয়ে ২ হাজার ৪০০টির বেশি উন্নয়ন প্রকল্প পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, অতীতে বহু প্রকল্প সমন্বিতভাবে না নিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে গ্রহণ করা হয়েছিল। এর ফলে দীর্ঘসূত্রতা, অতি-ব্যয় এবং ওভারল্যাপিংয়ের মতো জটিলতা তৈরি হয়।
প্রকল্পের অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব এড়াতে নতুন নির্দেশনা তৈরি করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি ব্যাখ্যা করেন, একটি নতুন প্রকল্প অনুমোদন ও প্রক্রিয়া শেষ করে ওয়ার্ক অর্ডার জারি হতে দুই বছর পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে। এ কারণে বর্তমানে চলমান প্রকল্পের ভেতরেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে কাজ দ্রুত শেষ করার দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করতে প্রকল্প কমিয়ে তিন জেলা বা বিভাগভিত্তিক সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের নীতি গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে ধোবাউড়াও হালুয়াঘাটের মতো উপজেলাগুলোর দাবি দ্রুত পূরণ করা যায়।
মেট্রোরেল ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি সম্পর্কিত এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে জুনায়েদ সাকি দুর্নীতির অভিযোগ খারিজ করে দেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-৫ ও অন্যান্য প্রকল্পের আন্তর্জাতিক অর্থায়নে আগের চেয়ে ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মান পরিবর্তনের একটি বড় প্রভাব পড়েছে। তাছাড়া প্রকল্পগুলো এখনো পরিকল্পনা কমিশনে চূড়ান্ত স্ক্রুটিনির (পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই) অপেক্ষায় রয়েছে এবং প্রতিটি ব্যয়ের খাত কঠোরভাবে পরীক্ষা করেই অনুমোদন দেওয়া হবে। বর্জ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো পরিবেশবান্ধব প্রকল্প শুরুতে ব্যয়বহুল হলেও এতে জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক কার্বন ক্রেডিট পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি মত দেন।
এদিকে পররাষ্ট্র সম্পর্কিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের অভিন্ন নদীগুলোর ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকারের অনড় অবস্থানের কথা নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে একটি নতুন দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ টিম গঠন করা হয়েছে এবং ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়ে জবাবের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
তিস্তা নদীর সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন তথ্য তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের সঙ্গে টেকনিক্যাল ইভালুয়েশন বা কারিগরি মূল্যায়নের প্রক্রিয়া কার্যকরভাবে শুরু হয়েছে। অচিরেই এই মূল্যায়ন কাজ শেষ করে পরবর্তী বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সরকার। জলবায়ু এবং পানিপ্রবাহ অক্ষুণ্ন রেখে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে নদীর পানির অধিকার রক্ষায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ধারাবাহিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

