মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

হংকংয়ে ‘এক দেশ, দুই পদ্ধতি’ বদলানোর কোনো কারণ নেই

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২২, ০৫:৩০

হংকংয়ের শাসনের ক্ষেত্রে ‘এক দেশ, দুই পদ্ধতি’ নীতি পালটানোর কোনো কারণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। শুক্রবার হংকংয়ের নতুন নেতা জন লি শপথ নেওয়ার পর দেওয়া ভাষণে শি একথা বলেন।

প্রায় আড়াই বছর আগে কোভিড-১৯ মহামারী শুরু হওয়ার পর এই প্রথম বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কেন্দ্রটিতে সফরে গেলেন শি। ঠিক ২৫ বছর আগে যুক্তরাজ্য হংকংকে চীনের কাছে হস্তান্তর করেছিল। হংকংয়ের হস্তান্তরের প্রতিষ্ঠাবর্ষিকী উদযাপন করতে সেখানে শি এর এই সফর। উপনিবেশ বানিয়ে রাখা হংকংকে ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই চীনের কাছে ফেরত দেয় ব্রিটেন। ঐ সময় অন্তত ২০৪৭ সাল পর্যন্ত হংকংয়ের জন্য বিস্তৃত স্বায়ত্তশাসন, ?নিরবচ্ছিন্ন ব্যক্তি অধিকার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি বেইজিং দিয়েছিল। চীনের মূলভূখণ্ডে না থাকা এসব স্বাধীনতা কর্তৃপক্ষ এখন পদদলিত করছে বলে সমালোচকরা অভিযোগ করেছেন। 

আগের বছর গণতন্ত্রের পক্ষে ব্যাপক বিক্ষোভ হওয়ার পর ২০২০ সালে হংকংয়ে কঠোর জাতীয় নিরাপত্তা আইন জারি করে বেইজিং। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন অভিযোগ করেছেন, হংকং ফিরে পাওয়ার সময় বেইজিং যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। চীন ও হংকং এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, নগরীটি যেন সমৃদ্ধ হতে পারে তার জন্য ঐ নিরাপত্তা আইন এবং তা ‘শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার’ করেছে।

শি বলেছেন, চীনের অধীনে হংকংয়ের ‘এক দেশ, দুই পদ্ধতি’ সফল হয়েছে। ‘এ ধরনের ভালো একটি পদ্ধতি থাকায় পালটানোর কোনো কারণ নেই। দীর্ঘ সময় ধরে এটা বজায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, ‘বাতাস ও বৃষ্টির অভিজ্ঞতা হওয়ার পর সবাই বেদনাদায়কভাবে অনুভব করেছে, হংকং বিশৃঙ্খল হতে পারে না এবং বিশৃঙ্খল হতে দেওয়া উচিত হবে না, হংকংয়ের উন্নয়ন আবার বিলম্বিত করা যাবে না এবং যে কোনো হস্তক্ষেপ নির্মূল করা আবশ্যক।’ শি বলেন, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে হংকংয়ের ভূমিকায় চীন সমর্থন দিয়ে যাবে। জন লির শপথ অনুষ্ঠানের শি-সহ উপস্থিত সব কর্মকর্তা মাস্ক পরে ছিলেন এবং তারা করমর্দন করেননি। হংকংয়ে বিশ্বের অন্যতম কঠোর কোভিড বিধিনিষেধ বলবত আছে। এসব বিধিনিষেধের কারণে বহু বাসিন্দা শহরটি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতেই নগরীটির প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন লি। নিরাপত্তা আইন প্রয়োগের কারণে সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে ওয়াশিংটন।

শুক্রবার ভিক্টোরিরা হারবারের অনুষ্ঠান স্থলকে ঘিরে প্রচুর নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়; ঐ এলাকার রাস্তাগুলো ও আকাশপথও বন্ধ করে দেওয়া হয়। লাল লণ্ঠন, চীনের ও হংকংয়ের পতাকা এবং ‘নতুন যুগ’ লেখা পোস্টার দিয়ে সারা শহর সাজানো হয়। ঐতিহ্যবাহী পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে শি উপস্থিত ছিলেন না। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার হংকং যাওয়ার পর রাতে তিনি সীমান্তের অপর পাশে মূলভূখণ্ডের শেনঝেংয়ে অবস্থান করেছেন। এর আগে ২০১৭ সালে নগরীটির বিদায়ি নেতা ক্যারি লামের শপথ অনুষ্ঠানের জন্য হংকংয়ে গিয়েছিলেন শি।

ইত্তেফাক/এএইচপি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

চীনে আবারও লকডাউন: আটকা পড়েছে ৮০ হাজার পর্যটক 

তাইওয়ান সরকারের ওয়েবসাইটে চীনের পতাকা লাগালো হ্যাকাররা

চীন ছাড়তে ৬ লাখেরও বেশি নাগরিকের অনুরোধ

দিল্লির আপত্তি, চীনা জাহাজের আসা পিছিয়ে দিলো কলম্বো

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

করোনার কারণে চীনে আটকা ৮০ হাজার পর্যটক

চীন সীমান্তে সামরিক মহড়ায় যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত

তাইওয়ানে শান্তি-স্থিতিশীলতা চান জাপানের প্রধানমন্ত্রী 

পেলোসির তাইওয়ান সফর যেভাবে বাইডেনের জন্য মাথাব্যথার কারণ