শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

এবার ঈদে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া থাকবে না ভোগান্তি, চলবে ২১ ফেরি

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২২, ২০:৩২

চলতি বছরের ২৫ জুন চালু হয়েছে দেশবাসীর স্বপ্নের পদ্মা সেতু।  কোনো রকম সিরিয়ালে আটকে না থেকে সরাসরি এসে ফেরিতে উঠবে যানবাহন। একইসঙ্গে ঈদে অতিরিক্ত যাত্রী ও যানবাহনের চাপ সামাল দিতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে ২১টি ফেরি চলাচল করবে। এতে করে এবারই প্রথম কোনো রকম দুর্ভোগ ও অপেক্ষা ছাড়াই ঈদযাত্রা সম্পন্ন করতে পারবে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ, এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আসন্ন ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মঙ্গলবার (৫ জুলাই) বেলা ১১টায় গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে ঘাট ব্যবস্থাপনার অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভা শেষে  এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সভা শেষে আরও জানানো  যায়, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে অতিরিক্ত যাত্রী ও যানবাহনের চাপ সামাল দিতে এবার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে ২১টি ফেরি চলাচল করা হবে। ঈদে যেন কোনো সমস্যা না হয়। প্রয়োজন হলে আরও একটি ফেরি বাড়ানো হবে।

বিগত বছরগুলোতে ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে ঘাট এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে গত ২৫ জুন দক্ষিণবঙ্গের অপর নৌপথ মাওয়া-জাজিরা পয়েন্টে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের পর পাল্টে যায় দৌলতদিয়া ঘাটের চিত্র। আগে দৌলতদিয়ায় মহাসড়কে ফেরির অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকতো যানবাহনের দীর্ঘ সিরিয়ালে। আর এখন যানবাহনের অপেক্ষায় থাকে ফেরি। ফলে এবারের ঈদ যাত্রায় কোনো ধরনের ভোগান্তি থাকবে না বলে ধরনা সংশ্লিষ্টদের।

সরজমিনে মঙ্গলবার দৌলতদিয়া ঘাট ঘুরে দেখা যায়, পদ্মার তীব্র স্রোতে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সেই সঙ্গে ঢাকামুখী কোরবানির পশুবাহী ট্রাকের চাপ বেড়েছে দৌলতদিয়া প্রান্তে। তবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী বাস ও পশুবাহী ট্রাক পারাপার করাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এতে করে দৌলতদিয়া মহাসড়কে শতাধিক সাধারণ পণ্যবাহী ট্রাকের সারি সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে লঞ্চ চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে। যানবাহন কমে যাওয়ায় লঞ্চে আগের মত যাত্রীদের চাপ নেই। 

দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে চলাচলকারী বেশ কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, এখন দৌলতদিয়া ঘাটে কোনো ভোগান্তি নেই। আশা করছি, ঈদেও কোনো ভোগান্তি হবে না। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের কারণে দৌলতদিয়ার ভোগান্তি দূর হয়েছে। আর আগের মতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিরিয়ালে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে না। সরাসরি ফেরিতে উঠতে পারছেন। 

মধুখালী থেকে ছেড়ে আসা ট্রাক চালক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ভোগান্তির অন্যনাম ছিল দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌরুট। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার আগে একটি দিনেও সরাসরি এসে ফেরিতে উঠতে পারি নাই। ৫ থেকে ২০ ঘণ্টা, আবার কোনো কোনো সময় দিনের পর দিন দৌলতদিয়ায় ফেরির জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। তবে এখন আর কষ্ট করতে হচ্ছে না। দ্রুত ফেরির নাগাল পাচ্ছেন। পদ্মা সেতুর কারণে তাদের মতো ট্রাক চালকদের খুব সুবিধা হয়েছে। ঈদে আর ভোগান্তি পোহাতে হবে না। 

কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী গরুবাহী ট্রাকের চালক মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, বিগত বছরগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দৌলতদিয়া আটকে থেকে অনেক সময় গরমে গরু অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। কিন্তু এবার সরাসরি এসে ফেরি পেয়েছি। 

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে অনুষ্ঠিত সভার সভাপতি গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন জানান, আসন্ন ঈদে দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে যাতায়াতকারীরা যাতে কোনো ভোগান্তির শিকার না হয়, সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। নৌরুটে পর্যাপ্ত ফেরির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের কাছ থেকে যাতে কেউ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে, সে লক্ষ্যে কঠোর নজরদারি করা হবে। এছাড়া মহাসড়কে কোনো প্রকার ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া হবে না।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ মোস্তফা মুন্সি, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদারসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তা, বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি