রাজবাড়ীতে পুলিশের সামনে নারীকে মারধর, গ্রেপ্তার-৩

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৪

রাজবাড়ী শহরের বড় বাজারে কাপড় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিরোধকে কেন্দ্র করে জাকিয়া সুলতানা নামে এক নারী উদ্যোক্তাকে পুলিশের সামনেই মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযানে ৩জনকে গ্রেপ্তার হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে মামলা দায়ের ও আসামিদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— রাজবাড়ী পৌরসভার ধুঞ্চি ১ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত জমজম খানের ছেলে আবদুল্লাহ আল সিয়াম খান (১৯), একই এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো. রুবেল হোসেন (১৯) এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ড ধূঞ্চি গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে মো. হেলাল উদ্দিন (৩৮)।

এর আগে, সোমবার দিবাগত রাতে নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানা বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী বড় বাজারের কাদরিয়া সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় ‘আস্থা পোশাক শিল্প গার্মেন্টস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে জাকিয়া সুলতানার। সম্প্রতি ওই প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারী চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর পাওনা বেতন ও মালামালের হিসাব নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, গত ২৩ আগস্ট ওই সাবেক কর্মচারী ১৫ থেকে ২০ জন লোক নিয়ে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বেতন দাবি করেন এবং জাকিয়া সুলতানাকে বিভিন্ন হুমকি দেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে রাজবাড়ী বড় বাজারে জাকিয়া সুলতানা ও স্থানীয় কাপড় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তবে পুলিশ উপস্থিত থাকার পরও এক নারী পুলিশ সদস্যের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা জাকিয়া সুলতানাকে বেপরোয়াভাবে লাথি ও ঘুষি মারেন কয়েকজন যুবক। পরে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে সর্বস্তরে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ জানান, নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানা থানায় মামলা দায়ের করার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ইত্তেফাক/এমএস