সিলেটের উচুঁ-নিচু পাহাড়ি অঞ্চলে কাঠবাদাম চাষের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। গাছটির উচ্চতা ১১৫-১১৬ফুট। পাতার আকৃতি প্রায় ডিম্বাকার ও চকচকে। কখনো সবুজ-হলদে-খয়েরি কিংবা গোলাপী-লালচে বর্ণের হয়। পাতার দৈর্ঘ্য ১৫ থেকে ২৫ সেমি আর চওড়া ১০ থেকে ১৪ সেমি। গাছ যত বড় হতে থাকে, এর ডালপালা উপরি অংশে মেলতে থাকে। দেখতে মনে হয় ফুলদানি।
মানব শরীরে বহু গুণের অধিকারি এই উদ্ভিদের ফল। এটি মানব শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল প্রতিরোদে এবং ভালো কোলেস্টেরল বৃদ্ধিতে সহায়তা রাখে। এ ছাড়া, কাঠবাদাম মানব শরীরে যেমন ওজন বাড়িয়ে দেয়, তেমনি নিয়মিত ডায়েটে ওজন কমাতে সাহায্য করে। এতে রয়েছে ভিটামিন ই, ক্যালসিয়াম, জিংক, কপার, ফসফরাস, সেলেনিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও আয়রন। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে, শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা কমায়, হৃদরোগে ঝুঁকি কমায় ও রক্তস্বল্পতা দূর করে থাকে।
সম্প্রতি শ্রীভূমির শ্রীহট্টে বেশ সুশোভিত হয়ে উঠেছে কাঠবাদাম গাছ। কেউ শখের বসে কাঠবাদাম লাগাচ্ছে আর কেউ উপকারি ভেবে এই উদ্ভিদ ফলন করে যাচ্ছে সময় সময়ে। এতে করে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে কাঠবাদাম গাছের চাষাবাদের কদর বেশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যখন ফলটি পেকে যায়, তখন খেতে খানিকটা আখরোটের মতো মনে হয়। সিলেট শহরের শাহী ঈদগাহ প্রাঙ্গণে সারিবদ্ধভাবে ১০টি কাঠবাদাম গাছ লাগানো হয়েছে। একইভাবে নগরীর টিলাগড়ের মদনী ঈদগাহে প্রায় ১০০ এর মতো কাঠবাদাম গাছ লাগানো হয়েছে। ৫০ শতক জায়গার ওপরে করা হয়েছে এই বাগান।
শুধু এই দু’জায়গায় নয়, শ্রীহট্টের অনেকে নিজ নিজ খালি আঙ্গিনায় আর বাগানে কাঠবাদাম গাছ লাগানো হয়েছে। বহুগুণের অধিকারী এই উদ্ভিদ সিলেটের পাহাড়ি অঞ্চলের আর্দ্রতার জন্য উপযোগী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ সমন্ধে সিলেটের শাহী ঈদগাহের কেয়ারটেকার কৃষক আব্দুল সালাম (৫৫) বলেন, কাঠবাদাম গাছ চাষাবাদ করতে হলে অনেকটা জায়গা নিয়ে দূরত্ব রেখে রোপণ করতে হবে। কেননা, এ গাছ যখন ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে, তখন উপরের দিকে ডালপালা মেলতে থাকে। এতে করে এই গাছ অনেকটা জায়গাজুড়ে নেয়। কাঠবাদাম গাছে আমি নিজে সার হিসেবে ব্যবহার করেছি ইউরিয়া সার ও শুকনা গোবর।
এ প্রসঙ্গে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর শহীদুল ইসলাম বলেন, জৈবসার যোগ করে ফসল বুনে চাষাবাদ করা সম্ভব। বিশেষ যত্নে পর্যাপ্ত জৈবসার ব্যবহার করতে হবে। পাহাড়ি অঞ্চলেও বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলানো যায়। এর উদাহরণ দেখা গেছে সিলেটে কাঠবাদাম গাছের সফলতা। এ অঞ্চলে নানা স্থানে কাঠবাদামের বাগান গড়ে ওঠেছে। একসময় মিষ্টি মরিচ চাষাবাদ হতো না এ অঞ্চলে। এখন তা হচ্ছে। বলা যায়, কোনো গাছের চারা রোপণের আগে তার জাত বাছাই করতে হবে।
পাহাড়ি অঞ্চল বলে কোনো ফসল ভালো হবে না বলে কোনোভাবে নেগেটিভ সেন্সে দেখা যাবে না। ফসলের জাত নির্বাচন, উপযুক্ত পরিচর্যার মাধ্যমে এ অঞ্চলেও ফসল ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। কাঠবাদাম গাছ এর একটি দৃষ্টান্ত বলে জানান তিনি।
