শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

প্রথম দিনেই জমজমাট রাজধানীর পশুর হাট

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২২, ০১:০৪

ঈদ যতই এগিয়ে আসছে ততই জমজমাট হচ্ছে রাজধানীর কোরবানির পশুর হাট। গতকাল অনানুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার প্রথম দিনেই বেশ সাড়া মিলছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে বেশ কিছু ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন তাদের জোর করে বিভিন্ন হাটে আনা হয়েছে। তাদের পছন্দমতো হাটে যেতে দেওয়া হয়নি। জোর করে তাদের গরুবোঝাই ট্রাক হাটে ঢুকানো হয়েছে।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন জায়গার হাটগুলো ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। প্রতিটি হাটে পশুর সরবরাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

গতকাল কাওলার শিয়ালডাঙ্গার হাট ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতারা হাটে আসছেন, তবে কিনছেন কম। তাদের দাবি, কিছু কিছু ব্যবসায়ী বেশি দাম হাঁকানোয় হতাশ ক্রেতারা।  আর বিক্রেতারা চাহিদা মতো দামে বিক্রি করতে না পারায় হতাশ।

প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে চলছে দর কষাকষি। বড় গরুর চেয়ে মাঝারি আর ছোট আকারের গরুর প্রতি আগ্রহ সবার। ঈমান নামে একজন বিক্রেতা বলেন, ২০টা গরু নিয়ে এসেছেন টাঙ্গাইল থেকে। এখনো ১টাও বিক্রি হয়নি। যে দাম দিয়ে এনেছি ক্রেতারা তো সে দাম হাঁকছেন না।

ছবি—সামসুল হায়দার বাদশা

কুষ্টিয়া থেকে এসেছেন আমিরুল ইসলাম। তিনি এনেছেন ৪০টি গরু। তিনি বলেন, চারটা বিক্রি করেছি। কাল থেকে খদ্দের আসবে। শুক্রবার নামাজের পর থেকে বেশি বিক্রি হবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরো জানান, বিভিন্ন হাটে ব্যবসায়ীদের জোর করে হাটে ঢুকানো হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের লোকসান হচ্ছে। মূলত, রাত ১০টা থেকে শুরু হয়ে ফজরের পর্যন্ত মূল সড়ক থেকে গুরুবোঝাই ট্রাক আসলে এভাবে ঢুকিয়ে নেয় হাটে। আমাদের তো একটু লাভ দরকার। আমাদের স্বাধীনতা নেই। গতবার লসে বিক্রি করেছি। এবার আশা করছি লাভ করব। গতবার গরু বেশি ছিল এবার কম।

এই হাটে প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকার গরু বিক্রি হয়। এখানে বিভিন্ন জেলা থেকেই খামারিরা গরু নিয়ে আসেন। এর মধ্যে পাবনা, মেহেরপুর, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, গাংনী, বগুড়া, রাজশাহী ছাড়াও টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুর থেকে গরু আসে।

ছবি—সামসুল হায়দার বাদশা

হাটের ইজারা বুথ থেকে জানানো হয়, আজকে একটু আবহাওয়া খারাপ। এ জন্য ক্রেতার দেখা তেমন নেই। তারা আশাবাদী আগামী কয়েক দিনে ভালো বেচাকেনা হবে। কারণ প্রতিবারই ঈদের ঠিক দুই দিন আগে পশুর হাট জমে যায়।

এদিকে উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন হাটেই জোর করে ব্যবসায়ীদের আনা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গরু ব্যবসায়ী ও চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পথে পথে এভাবে ধরে আনার কারণে পশুর দাম অনেকটাই বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। সে সঙ্গে সাম্প্রতিক বন্যা এবং পশুখাদ্যের দর বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিও যোগ হতে পারে।

এ বিষয়ে জানার জন্য উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মাহে আলমকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

জমে উঠেছে পশুর হাট, মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি