নীলফামারীতে পশুর হাটে ইজারাদারদের ইচ্ছানুযায়ী টোল আদায়ের অভিযোগ

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২২, ১৫:৫২

ঈদ-উল-আজহাকে কেন্দ্র করে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার পশু কেনা-বেচার হাটগুলোতে হাট ইজারাদারদের ইচ্ছানুযায়ী টোল আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাটে টাঙ্গানো হয়নি পশু কেনা-বেচার টোল প্রদানের সাইনবোর্ড।

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার সর্বাধিক পশু কেনা-বেচার হাটগুলোর মধ্যে সোনারায় ইউনিয়নের বসুনিয়া হাট, গোমনাতী ইউনিয়নের আমবাড়ী হাট ও বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের বোড়াগাড়ী হাট অন্যতম। উক্ত হাটগুলোতে সরকারের নির্ধারিত মূল্যের চারগুণ বেশি টোল নেওয়া হচ্ছে হাটগুলোতে আসা পশু ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কাছ থেকে।

অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ এনে ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা’র কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা। 

ওই অভিযোগ থেকে জানা গেছে, একই গরু ছাগল কেনা-বেচায় ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের কাছে নেওয়া হচ্ছে টোল। টোল আদায়ের বিবরণ হাটের নামানুসারে বোড়াগাড়ী হাটে গরু ক্রেতা ৩০০ টাকা, বিক্রেতা ৫০০ টাকা, ছাগল ক্রেতা ১০০ টাকা ও বিক্রেতা ১৫০ টাকা। আমবাড়ী হাটে গরু ক্রেতা ২০০ টাকা ও বিক্রেতা ৫০০ টাকা, ছাগল ক্রেতা ১০০ টাকা ও বিক্রেতা ১৫০ টাকা। এবং বসুনিয়া হাটে গরু ক্রেতা ৬০০ টাকা ও বিক্রেতার কাছে ২০০ টাকা করে হাটে পশু কেনা-বেচার টোল আদায় করছেন হাট ইজারাদাররা।

উক্ত হাটগুলোতে সরকার নির্ধারিত মূল্যে গরু ২১০ টাকা করা হলেও ঈদ উপলক্ষে জোরপূর্বক ক্রেতা-বিক্রেতার কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৮০০ টাকা। হাটগুলোতে আদায়কৃত টোল আমবাড়ী, বোড়াগাড়ী হাটের পশু বিক্রয়ের রশিদ বহিতে উল্লেখ থাকলেও বসুনিয়া হাটে আদায়কৃত টাকা উল্লেখ না করছেন না রশিদ লেখকরা। 

বসুনিয়া হাটে গরু কিনতে আসা সাজ্জাদ কিবরিয়া হোসেন পাপ্পু, মেহেদী, মো. রাসেল, রবিউল, মোকছেদ ও আমবাড়ী হাটের নুরনবী, মোজাম্মেল, জাকারিয়া, হাসমত এবং বোড়াগাড়ী হাটে সেরাজুল, নুর আমিন, আনিছুর রহামান জানান, আমরা ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই মিলে প্রতি গরুতে ৮০০ টাকা করে টোল দিয়েছি। অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে, তারা বলেন ঈদ উপলক্ষে নেওয়া হচ্ছে।

ক্রেতারা জানান, গত বারের চেয়ে চলতি হাটে প্রায় তিনগুণ বেশি টোল নিচ্ছেন হাট ইজারাদাররা।

আমবাড়ী হাট ইজারাদার ওসমান আলীর কাছে অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, শুধু ঈদ উপলক্ষে বেশি নেওয়া হচ্ছে। ঈদের পরে আগের মূল্যে নেওয়া হবে।

বোড়াগাড়ী হাট ইজারাদার সাইদার রহমান ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত টোল আদায়ের কথা শিকার করে বলেন, ‘শুধু ঈদ উপলক্ষে ২০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।’ বসুনিয়া হাট ইজারাদার মামুনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রমিজ আলম’র কাছে পশু কেনা-বেচার হাটগুলোতে অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ 

ইত্তেফাক/এসজেড