পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, দেশের আর্থিক স্বাস্থ্য বুঝতে প্রতি বছর শুমারি জরুরি। বাংলাদেশের মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) কৃষির অবদান ১৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। আগামীতে এটা আরো বাড়বে। তিনি বলেন, আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। এখন আমাদের বেশি প্রয়োজন উন্নত প্রজাতির মাছ ও সবজি। যাতে পুষ্টির কোনো অভাব না থাকে। কৃষি শুমারির মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারব ধান, গম, পাট, ফল, মাছ ও গবাদিপশুর অবস্থান সম্পর্কে। এটি দেশব্যাপী বৃহত্ আকারে পরিচালিত অন্যতম পরিসংখ্যানিক কার্যক্রম। প্রতি ১০ বছর অন্তর কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
গতকাল রবিবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) কৃষি শুমারির তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম উদ্বোধন করে এ কথা বলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী। বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার গাইড লাইন অনুসারে সারা দেশে শহর ও পল্লি এলাকায় ‘কৃষি (শস্য, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ) শুমারির মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ গতকাল থেকে শুরু হয়েছে, চলবে ২০ জুন পর্যন্ত। বিবিএস ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ নাথ চক্রবর্তী, অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) বিকাশ কিশোর দাস, মহাপরিচালক ড. কৃষ্ণা গায়েন।
কৃষি শুমারি প্রকল্পের পরিচালক জাফর আহাম্মদ খান জানান, কৃষি শুমারি পরিচালনার মাধ্যমে কৃষি খানার সংখ্যা, আকার, ভূমির ব্যবহার, কৃষির প্রকার, শস্যের ধরন, চাষ পদ্ধতি, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগির সংখ্যা, মত্স্য উত্পাদন ও চাষাবাদ সংক্রান্ত তথ্যাদি এবং কৃষি ক্ষেত্রে নিয়োজিত জনবল সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। এ তথ্য-উপাত্ত কৃষি ক্ষেত্রের উন্নয়ন কৌশল নির্ধারণ এবং অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে বেঞ্চমার্ক তথ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
শুমারির মাধ্যমে ভূমির ব্যবহার, চাষযোগ্য জমির প্রকার ও ফসলের বৈচিত্র্য, কৃষি উপকরণ, সেচ যন্ত্রপাতি সম্পর্কিত পরিসংখ্যান তৈরি করা হবে। এছাড়া, জাতীয় আয়ে কৃষির অবদান নির্ণয় এবং কৃষি খানা ও প্রতিষ্ঠানের রেজিস্টার তৈরি করা হবে।
