টি-২০ বিশ্বকাপের বাকি আর ৯৯ দিন। কুড়ি ওভারের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসরে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কেমন তা সময়ই বলে দেবে। তবে প্রত্যাশার পারদটা খুবই নিচুতে থাকবে। তা বোঝা গেছে এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেই। দ্বিতীয় ম্যাচের মতো শেষ ম্যাচেও কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেনি বাংলাদেশ। গায়ানায় ৫ উইকেটে হারের পাশাপাশি সিরিজটাও ২-০ ব্যবধানে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দিয়ে দিলেন টাইগাররা।
বিশ্বকাপ সামনে রেখে এই সিরিজ দিয়েই প্রস্ত্ততি শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। কিন্তু আপাতত প্রস্ত্ততির দশাটা বেহাল। বোলিংয়ে পরিকল্পনাহীনতা আর ব্যাটিংয়ে সক্ষমতার অভাব। ফরম্যাটটা যেহেতু টি-২০ তাই সবার আগে ব্যাটিংয়ের কথা আসবে স্বাভাবিক। এর মেজাজটাই এখনো রপ্ত করতে পারেননি টাইগাররা।
গায়ানায় টস জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। উইকেট কিছুটা মম্হর থাকলেও এখানে বড় স্কোর সম্ভব ছিল। কিন্তু ডট বল প্রবণতা থেকে সরে আসতে না পারায় টাইগারদের সংগ্রহ ১৬৩ রানের বেশি এগোয়নি। তাও মাত্র পাঁচ উইকেট হারিয়ে। লিটন দাস উইকেটে বেশিক্ষণ থাকার সুযোগ পেয়েও ৪১ বলে ৩ চার ও ২ ছয়ে কেবল ৪৯ রান করেন। আফিফ হোসেনের ৩৮ বলে ২ চার ও ২ ছয়ে ৫০ রান পোক্ত করতে পারেনি বাংলাদেশের ইনিংস। ‘ফিনিশিং অ্যাবিলিটি’ নিয়ে নামা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২২ রান করতেই খরচ করেন ২০ বল।
জবাব দিতে নেমে ক্যারিবিয়ানরা পাওয়ার প্লে তে দ্রুত তিন উইকেট হারালেও জয় পেতে অসুবিধা হয়নি। বাংলাদেশি বোলারদের কচুকাটা করে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যায় কাইল মেয়ার্স ও অধিনায়ক নিকোলাস পুরানের ঝোড়ো ইনিংস। মেয়ার্স ৩৮ বলে ২ চার ও ৫ ছয়ে ৫৫ রানে ফিরে গেলেও শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন পুরান। ৩৯ বলে সমান পাঁচটি করে চার-ছক্কায় গড়া ক্যারিয়ার-সেরা ৭৪ রানের ইনিংসটি তাকে একই সঙ্গে ম্যাচ সেরার পাশাপাশি সিরিজ সেরার পুরস্কারও এনে দেয়।
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন নাসুম আহমেদ। একটি করে উইকেট নেন মেহেদী হাসান, সাকিব আল হাসান ও আফিফ হোসেন। বোলারদের ব্যর্থ নিয়ে ম্যাচ শেষে লিটন বলেন, ‘বোলিংয়ে আমরা ঠিকমতো বাস্তবায়ন করতে পারিনি (পরিকল্পনার)। তবে ওদেরকেও কৃতিত্ব দিতে হবে, যেভাবে ওরা ব্যাটিং করেছে, পুরান ও মেয়ার্স, খুব ভালো ভালো বলেও ওরা মেরে দিয়েছে। এই জিনিসটা ওদের প্লাস পয়েন্ট, পাওয়ার ক্রিকেট খেলে, যেটা আমরা খেলতে পারি না। এই ব্যাপারগুলো বোলারদের মাথায় কাজ করে যে একটু উনিশ-বিশ হলেই মেরে দেবে।’
সেই পাওয়ার হিটিং নিয়েই দুশ্চিন্তা কাজ করছে লিটনের মনে। বিশ্বকাপের কথা ভাবলেই ছনাবড়া হয়ে উঠছে চোখ, ‘বিশ্বকাপে আমরা যেখানে খেলব, মাঠ অনেক বড় থাকবে। সেখানে এই জিনিসটা আমাদের অনেক ভোগাবে। এখান থেকে আমরা যত ম্যাচ খেলব, উন্নতি করব, তাহলে আত্মবিশ্বাস নিয়ে যেতে পারব বিশ্বকাপে। টি-টোয়েন্টি অনেকে বলেন—স্কিলের খেলা, অনেক বলেন টেকনিকের খেলা, কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, পাওয়ার গেমও অনেক সময় দরকার পড়ে। আমার মনে হয়, এই জায়গায় আমরা অনেক পেছনে।’
পাওয়ার হিটিং না হয় হচ্ছে না কিন্তু স্কিল-টেকনিকেই বা বাংলাদেশ নিয়মিত নিজেদের সক্ষমতা দেখাচ্ছে কই!
