শ্রীলঙ্কায় গত কয়েকমাস ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শনিবার (৯ জুলাই) বিপজ্জনক মোড় নেয়। এদিন হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ জনতা জোর করে কলম্বোতে প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের বাসভবনে ঢুকে পড়ে। এর আগে গোটাবায়াকে বাসভবন থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট এখন কোথায় অবস্থান করছেন তা স্পষ্ট নয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনেও বিক্ষোভকারীরা ঢুকে পড়ে।
বিক্ষোভকারীরা দাবি করেছে, তারা প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের বাসভবনে লাখ লাখ রুপি পেয়েছে। রবিবার (১০ জুলাই) এক মিডিয়া রিপোর্টের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, গোটাবায়ার ভবনে পাওয়া অর্থ বিক্ষোভকারীদের এসব অর্থ গুনতে দেখা গেছে। ডেইলি মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অর্থ নিরাপত্তা বাহিনীর স্থানীয় ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের বাড়িতে অর্থ পাওয়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তারা মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট ঘটনা খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
তবে দেশটিতে শনিবারের সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত প্রাণহানির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ আহত ৩৩ জনকে কলম্বোর ন্যাশনাল হসপিটাল অব শ্রীলঙ্কায় নেওয়া হয়েছে বলে বিবিসি সিনহলা সার্ভিসকে জানিয়েছেন হাসপাতালের একজন মুখপাত্র।
ফেসবুকে বিভিন্ন লাইভস্ট্রিমে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট বাসভবনের ভেতর বিভিন্ন কক্ষে এবং করিডোরে শত শত মানুষ। বাইরের উদ্যানে এবং ভবনের ছাদেও বহু বিক্ষোভকারী অবস্থান করছে। তাদের অনেকের হাতে শ্রীলংকার পতাকা।
একটি ফুটেজে দেখা গেছে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী ভবনের চত্বরের সুইমিং পুলে নেমে সাঁতার কাটছে, ঝাপাঝাপি করছে। জানা গেছে, কিছুটা দূরে প্রেসিডেন্টের অফিস ভবনের মধ্যেও একদল বিক্ষোভকারী ঢুকে পড়ে।
শনিবার কলম্বোতে নির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচি ঠেকাতে শুক্রবার রাতেই সরকার রাজধানীতে কারফিউ জারি করে। কিন্তু বিরোধী দল এবং নাগরিক সংগঠনগুলোর প্রতিবাদের মুখে কারফিউ তুলে নেওয়া হয়।
সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রামাসিংহে দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে একটি জরুরী বৈঠকে ডেকেছেন। তিনি স্পিকারকে পার্লামেন্টের অধিবেশন ডাকতে বলেছেন।
