শ্রীলঙ্কান প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের দেশ ছেড়ে পালানো নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য আসছে। গতকাল সোমবার (১১ জুলাই) শ্রীলঙ্কান সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার বিকেলে প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে দেশ ত্যাগ করেছেন। তবে আজ মঙ্গলবারই (১২ জুলাই) গোটাবায়ার দেশ পালানো নিয়ে এলো ভিন্ন তথ্য।
বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, গোটাবায়া আজ দেশ ত্যাগ করতে বিমানবন্দরে যান। কিন্তু দেশটির অভিবাসন কর্মকর্তাদের বাধা দিলে তার দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়। তবে আকাশপথে ব্যর্থ হলেও গোটাবায়া নৌবাহিনীর জাহাজে করে শ্রীলঙ্কা ছাড়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
যদিও ইতোমধ্যে আগামীকাল পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন গোটাবায়া, স্বাক্ষর করেছেন পদত্যাগ পত্রে । তবে প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের বাসভবনে অবস্থান নেওয়া বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছে, দুই নেতার আনুষ্ঠানিকভাবে গদি না ছাড়া পর্যন্ত তারা বাসভবন থেকে সরছেন না।
এদিকে এর আগে প্রেসিডেন্টের ছোটভাই ও দেশটির সাবেক অর্থমন্ত্রী বাসিল রাজাপাকসেও গোপনে দেশ ছেড়ে পালাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দেশটির সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের বাধার কারণে তার সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
দেশটির কর্মকর্তারা বলেন, ৭৪ বছর বয়সী গোটাবায়া স্ত্রীসহ কলম্বোর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে সামরিক ঘাঁটিতে ছিলেন। তিনি গতকাল সোমবার রাতে সেখানেই ছিলেন। সেখান থেকেই আজ সকালে বিমানবন্দরে আসেন। তবে দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
কর্মকর্তারা আরও বলেন, তিনি দুবাই যেতে চেয়েছিলেন। খবরে বলা হয়েছে, আটক হওয়া থেকে বাঁচতেই দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন গোটাবায়া।
শ্রীলঙ্কা ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতিতে জর্জরিত এবং ৭০ বছরের ইতিহাসে দেশটি সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়েছে। যার কারণে খাদ্য, জ্বালানি এবং ওষুধ আমদানি করতে লড়াই করতে হচ্ছে তাদের।
দেশটির বৈদেশিক মুদ্রা শেষ হয়ে গেছে এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের জন্য পেট্রোল এবং ডিজেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হয়েছে, যার ফলে জ্বালানির জন্য দিনব্যাপী দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
