ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহযোগিতার অংশ হিসেবে ইরান মস্কোকে কয়েক শ ড্রোন দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, তেহরান মস্কোকে যেসব ড্রোন দেওয়ার কথা ভাবছে তার মধ্যে আক্রমণের সক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোনও আছে। ওয়াশিংটনের এ দাবির বিষয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে মস্কো বা তেহরানের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেইক সুলিভান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যেসব তথ্য এসেছে তাতে ইরান তাদের ড্রোন ব্যবহারে রুশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এমন ইঙ্গিতও মিলেছে। ইরান এরই মধ্যে রাশিয়াকে সেসব ড্রোন পাঠিয়ে দিয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি, বলেছেন তিনি। ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শত্রুপক্ষের অবস্থান চিহ্নিত করা এবং লক্ষ্যে আঘাত হানতে ছোড়া গোলা ও ক্ষেপণাস্ত্রের দিক ঠিক করতে ড্রোন খুবই কার্যকরী। কয়েক দিন আগে ইউক্রেনও তার পশ্চিমা মিত্রদের কাছে রুশ বাহিনীকে মোকাবিলায় হাজার হাজার ড্রোন অনুদান চেয়েছে। সুলিভান বলেছেন, ইরানের ড্রোন এর আগে সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন চলতি সপ্তাহে ইসরাইল ও সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন, তার আগে আগেই সুলিভান রাশিয়াকে ইরান ড্রোন সরবরাহ করতে যাচ্ছে এমন বিস্ফোরক দাবি করলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্ব ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর যেসব নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে এশিয়ার কয়েকটি দেশ তাতে শামিল হলেও সৌদি আরব ও ইসরাইল সেই তালিকায় নেই। ইসরাইল ইরানকে তাদের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে। ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে তাদের ভাষায় ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরু করার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্ররা কিয়েভের সহায়তায় শত শত কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করেছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে, বলেছেন সুলিভান।
আগামী সপ্তাহে তেহরান সফর করবেন পুতিন :
এদিকে ইরান রাশিয়াকে কয়েক শ ড্রোন দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে এমন দাবি করার এক দিন পরই বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহে তেহরান সফরে যাচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার তিনি ইরানে যাবেন। এই সফরে তিনি ইরান এবং তুরস্কের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সিরিয়ার বিষয়ে তারা আলোচনা করবেন বলে জানানো হয়। পেসকভ নিশ্চিত করেছেন যে, এই সফরে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন পুতিন।
