শৃঙ্খলা ফেরাতে সেনাবাহিনীকে 'সবকিছু' করার নির্দেশ বিক্রামাসিংহের 

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২২, ১৭:১১

নজিরবিহীন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সঙ্কট ও বিক্ষোভে টালমাটাল শ্রীলঙ্কা। ইতোমধ্যে দেশটির প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে দেশ ছেড়ে পালিয়ে মালদ্বীপে গেছেন। এরই মধ্যে দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রামাসিংহে। সর্বশেষ, দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে রনিল সেনাবাহিনীকে যা কিছু করা দরকার তার নির্দেশ দিয়েছেন। এক টেলিভিশন ভাসণে তিনি এই মন্তব্য করেছেন। 

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় ভবন দখলকারী বিক্ষোভকারীদের সেসব স্থান থেকে চলে যেতে এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান রনিল। 

রনিল বিক্রামাসিংহে বলেন, আমরা আমাদের সংবিধানের ক্ষতি করতে পারি না। ফ্যাসিস্টদের ক্ষমতা দখল করতে দিতে পারি না। আমাদের গণতন্ত্রের জন্য এই ফ্যাসিবাদী হুমকির অবসান ঘটাতে হবে। 

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভকারীরা। ছবি: রয়টার্স

এদিকে এর আগে দেশটির প্রেসিডেন্ট গোটাবায়ার দেশ ছেড়ে যাবার খবর বের হওয়ার পর সকাল থেকেই কলোম্বোর রাস্তায় বের হয়ে আসেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। তারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন এবং পার্লামেন্ট ভবনের উদ্দেশ্যে যেতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারফিউ ও জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গেট ভেঙে ঢুকে পড়েছেন এবং সেখানে অবস্থান করছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এখন বিক্ষোভকারীর দখলে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। 

সেখানে বিক্ষোভকারীরা বিজয়ের উল্লাস করছেন, জয়ধ্বনি দিচ্ছেন।  অনেক বিক্ষোভকারীকে প্রধানমন্ত্রীর বারান্দায় দাঁড়িয়ে আনন্দে চিৎকার করতে দেখা গেছে।  

এর আগে হাজার হাজার উত্তেজিত বিক্ষোভকারী দেশটির রাজধানী কলোম্বোতে কারফিউ উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান নিলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। 

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভকারীরা। ছবি: রয়টার্স

ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে কাঁদানে গ্যাসের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে গেছে পুরো এলাকা। নিরাপদে আশ্রয় নেবার জন্য মানুষজনকে দৌড়াতে দেখা গেছে। এ'সব ঘটনা ঘটছে যখন শ্রীলংকার বিরোধীদলগুলো একটি নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করেছে।

কয়েক মাস ধরে দেশটিতে ভয়াবহ জ্বালানি, বিদ্যুৎ, খাদ্য ও ঔষধ সংকট চলছে। দেশটির ইতিহাসের সবচাইতে বড় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের জন্য সেখানকার জনগণ রাজাপাকসে পরিবার ও তাদের অধীনে পরিচালিত প্রশাসনকে দায়ী করে আসছে। বিবিসি, এনডিটিভি।  

ইত্তেফাক/এসআর/এএএম