নাগরিকত্ব হারাচ্ছেন না ফারাহ

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২২, ০৩:১৫

সোমালিয়ায় জন্ম। কিন্তু ঘটনাচক্রে পাচারের শিকার হয়ে মাত্র নয় বছর বয়সে চলে আসেন যুক্তরাজ্যে। যাকে এখন সবাই চেনে মোহাম্মদ ফারাহ নামে। কিন্তু ফারাহ তার আসল নাম নয় বরং নামটি পাচারকারীদের পক্ষ থেকেই দেওয়া। অলিম্পিকে চারটি স্বর্ণপদক জেতা অ্যাথলেটের অবিশ্বাস্য গল্পটি এত দিন অজানাই ছিল। তবে বেআইনিভাবে মিথ্যা নাম ব্যবহার করায় নাগরিকত্ব যাচ্ছে না এই অ্যাথলেটের। এ ব্যাপারে কোনো তদন্ত করবে না যুক্তরাজ্যের হোম অফিস।

তা শুনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন ফারাহ। কিছুদিন আগে নিজের অজানা সত্যগুলো জানিয়ে নাগরিকত্ব হারানোর শঙ্কার মুখে পড়ে যান তিনি। কিন্তু তেমন কিছুই হচ্ছে না। বিবিসি রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফারাহ বলেন, ‘এই খবরটা আমাকে স্বস্তি দিয়েছে। এটাই আমার দেশ। স্কুলের শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক অ্যালান ওয়াটকিনসন এবং ছোটবেলায় যারা আমাকে সাহায্য করেছেন, তারা না থাকলে এই জায়গায় পৌঁছতেই পারতাম না। আমার এই জীবনের জন্য অনেকের কাছেই কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে আমার স্ত্রী তানিয়ার কথা বলব। সব সময় পাশে থেকেছে। সবকিছু জেনেও সাহস দিয়েছে। অ্যাথলেটিক্স জীবনে সব থেকে বেশি উৎসাহ দিয়েছে। ওর কথাতেই জীবনের সত্য সকলের সামনে এনেছি।’

ফারাহর আসল নাম হুসেইন আবদি কাহিন। স্কুলের শারীরিক শিক্ষকের নজরে আসে তার প্রতিভা। তাই অ্যাথলেটিকসেই গড়েন ক্যারিয়ার। সেই ক্যারিয়ারে সফলতার মুখই দেখেছেন তিনি। লন্ডন ও রিও অলিম্পিকে ৫ হাজার ও ১০ হাজার মিটার দৌড়ে জিতেছেন স্বর্ণ। ছয়বার স্বর্ণ জিতেছেন বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স। ব্রিটেনের অ্যাথলেটিক্সে বিশেষ অবদানের জন্য নাইটহুড উপাধি দেওয়া হয় তাকে। যার ফলে তার নামের আগে ‘স্যার’ শব্দটি বসাতে। তবে ৩৯ বছর বয়সী ফারাহর এমন অতীতটা এত দিন অপ্রকাশিতই ছিল। ফারাহ বলেন, ‘আমার জীবনের সত্যটা সব সময়ই আমার থাকবে। একটা সময় নিজের পরিবারের সঙ্গেও এসব কথা বলতে অস্বস্তি হতো। প্রকাশ্যে আনার কথা ভাবতেই পারতাম না। কিন্তু তথ্যচিত্রে সবকিছু বলতে পেরে আমি খুশি| মানুষের জানা উচিত, ছোট বয়সে আমার সঙ্গে সঙ্গে কী কী ঘটেছে।’

ইত্তেফাক/টিএ