স্কটল্যান্ডে অনুষ্ঠানরত কমনওয়েলথ গেমস অ্যাথলেটিকসে হিটেই বাদ পড়েছেন লন্ডন প্রবাসী অ্যাথলেট ইমরানুর রহমান। হিটেই বাদ পড়েছেন সাঁতারু সামিউল ইসলাম রাফি সাঁতারু কাজল মিয়া। অ্যাথলেট কিংবা সাঁতারু হিটেই বাদ পড়ছেন সব সময়। এখানে এই ক্রীড়াবিদদের জন্য কমনওয়েলথ গেমস হচ্ছে নিজের সঙ্গে নিজের লড়াই। এখানে আশা করেও কোনো লাভ নেই। কারণ ফেডারেশনগুলো আজীবন এভাবেই ক্রীড়াবিদদেরকে তৈরি করতে পারেননি যে, চমক দেবেন।
বছরের পর বছর যাওয়া-আসার মধ্যে রয়েছেন ক্রীড়াবিদরা। শুটিংয়ে যেভাবে সোনার পদক জয় করে দেশকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন শুটাররা, সেই স্বপ্ন আর বিস্তৃতি লাভ করেনি। সাঁতার এবং অ্যাথলেটিকসের ক্রীড়াবিদরা বছরের পর বছর বলে আসছেন তারা অলিম্পিকে ভালো করতে চান। অথচ কমনওয়েলথ গেমসেই তারা বারবার হিটে বাদ পড়েছেন। এখনো সেই ধারা চলে আসছে।
অ্যাথলেট ইমরানুর রহমান প্যারিস অলিম্পিক গেমসে লড়াই করে তার সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন। তিনি ইনজুরিতে ছিলেন। দেশের দ্রুততম মানব হওয়া এই অ্যাথলেট অলিম্পিক গেমসের পর উন্নতির খবর শোনাতে পারেননি। অথচ তিনি লন্ডনে উন্নত সুযোগ সুবিধার মধ্যেই নিজেকে গড়ে তুলেছেন। কিন্তু দেশকে কিছু উপহার দিতে পারছেন না। ইমরানুর রহমান মূলত ৬০ মিটার স্প্রিন্টের খেলোয়াড়। ২০২৩ সালে এশিয়ান ইনডো অ্যাথলেটিকসে স্বর্ণ জয় করে দেশে ফিরেছিলেন। ওটাই ছিল আগেও পরে একমাত্র পদক দেশের হয়ে। অথচ ইমরানুর দেশের ট্র্যাক জাতীয় অ্যাথলেটিকসে তিনি সেরা হন, কিন্তু আন্তর্জাতিক ট্র্যাকে নামলে অন্ধকারেই পড়ে থাকেন। বারবার হতাশা ছাড়া আর কিছু দিতে পারননি তিনি।
গতকাল স্কটল্যান্ডের স্কটাউন স্টেডিয়ামে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ৬ জনের মধ্যে তৃতীয় হয়েছেন ইমরানুর রহমান। আর সব মিলিয়ে ৮৪ জনের মধ্যে ২৭ হয়েছেন। সেমিফাইনালে উঠতে পারেননি। তিনি সময় নিয়েছেন ১০.৩৯ সেকেন্ড। তার ক্যারিয়ারসেরা সময় ছিল (১০.১১ সেকেন্ড) ২০২৩ সালে লন্ডনে একটি টুর্নামেন্টে। হিসেব করলে দেখা যায় ইমরানুরের অবনতি হয়েছে।
ইমরানুররা বছর জুড়েই বিদেশে থাকেন। নির্মল আলোবাতাসে নিশ্বাস নেন, ঘি পনিরযুক্ত খাবার খান, ভেজালমুক্ত খাবার খান, তাদের জীবন জীবিকা সবই বিদেশের মাটিতে। জাতীয় পর্যায়ের খেলা হলে তারা দেশে আসেন, অন্যান্য যেসব অ্যাথলেট পুষ্টিহীনতায় রয়েছেন আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত হাড়ভাঙা অনুশীলন করছেন তাদের সঙ্গে লড়াই করে ইমরানুর প্রথম স্থান অধিকার করে নতুন কোনো দেশের নতুন কোনো গেমেস খেলতে চলে যান। দেশের মাটি কামড়ে যারা বড় হওয়ার স্বপ্নে ঘাম ঝরাচ্ছেন তাদের নিয়ে ফেডারেশনগুলোর ভাবনা কোথায়।
পারছেন না দেশের দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তার। দেশে তাকে ছাড়িয়ে যাওয়া কঠিন হলেও তিনি বিদেশের ট্র্যাকে সবার পেছনে। হিটে বিদায় নেয়া শিরিন আক্তার ৫৩ জনের মধ্যে ৪১তম হয়েছেন, তার নিজের হিটে হয়েছে সপ্তম, সময় নিয়েছেন ১২.৪০ সেকেন্ড। সেমিফাইনালে উঠতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী নারী বক্সার জিনাত ফেরদৌস আইরিশ বক্সার কেটলিন ফ্রায়ার্সের কাছে পাত্তাই পাননি। হেরেছে ৫-০ ব্যবধানে।
সাঁতারু সামিউল ইসলাম রাফি আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) বৃত্তি নিয়ে বছর জুড়ে বিদেশে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন। স্কটল্যান্ড কমনওয়েলথ গেমস সাঁতারের ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইল ইভেন্টে বিদায় নিলেও টাইমিংয়ে একটু উন্নতি হয়েছে। গতকাল টলক্রস আন্তর্জাতিক সুইমিং সেন্টারে হওয়া হিটে রাফি দ্বিতীয় হয়েছেন, তার সময় ছিল ০০: ৫৩: ১০ সেকেন্ড সময়। ব্যক্তি সেরা সময়টা ছিল ০০:৫২:৪৯ সেকেন্ড। রাফিউল ইসলাম রাফি ৭০ জনের মধ্যে ৪০তম হয়েছেন। গতকাল একই দিনে ২০০ মিটার বাটার ফ্লাই ইভেন্টে সাঁতারু কাজল মিয়া ২০ জনের মধ্যে ১৬তম হয়েছেন। তার আগের টাইমিং ছিল ২: ১২:৫২ সেকেন্ড, আর গতকাল টাইমিং ছিল ২: ১২: ৩৫ সেকেন্ড। কিছুটা উন্নতি।

