মারপিটের শিকার হইনি: অধ্যক্ষ সেলিম রেজা

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২২, ১৭:৫৮

রাজশাহীর গোদাগাড়ীর রাজাবাড়ী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সেলিম রেজাকে পেটানোর ঘটনা সত্য নয় বলে দাবি করেছেন ওই অধ্যক্ষ নিজে এবং রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর হাতে মারপিটের শিকার হইনি।’ বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর নিউ মার্কেট এলাকায় এমপি ফারুক চৌধুরীর রাজনৈতিক কার্যালয় ‘থিম ওমর প্লাজায়’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এই দাবি করেন।

সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর হতে কলেজ অধ্যক্ষ সেলিম রেজা মারপিটের শিকার হয়েছেন এমন খবর গণমাধ্যমে আসে। এছাড়া এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা হয়। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করা হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর হাতে নিজে মারপিটের শিকার হননি বলে দাবি করে গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সেলিম রেজা বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে গত ৭ জুলাই আব্দুল আওয়াল রাজু আমাদের ফোন করে এমপির কার্যালয়ে আসতে বলেন। সেখানে ৭-৮ জন অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ উপস্থিত হয়। পরে আমাদের অধ্যক্ষ ফোরামের কমিটি গঠন ও অভ্যন্তরীণ অন্যান্য বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে আমাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ সময় এমপি আমাদের নিবৃত করেন। এছাড়া সেখানে আর অন্য কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

রাজাবাড়ী ডিগ্রি কলেজ। ছবি: সংগৃহীত

সংবাদ সম্মেলনে এমপি ফারুক চৌধুরী ও অধ্যক্ষ সেলিম রেজা ছাড়াও মাটিকাটা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল আওয়াল রাজু বক্তব্য রাখেন।

সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘অধ্যক্ষ ফোরামের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে গত ৭ জুলাই তার কার্যালয়ে যা ঘটেছে তা বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে। একটি চক্র ইস্যু তৈরি করার জন্য মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে আমার সম্মানহানি করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘মূলত ঈদের আগে শুভেচ্ছা বিনিময়র করার জন্য অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের ডাকা হয়েছিল। সেখানে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে পড়েন তারা। বিশেষ করে অধ্যক্ষ আব্দুল আওয়াল রাজু ও অধ্যক্ষ সেলিম রেজার মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে তিনি গিয়ে তাদের থামান।’

উল্লেখ্য, এই বিয়ে গত বুধবার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তোলপাড় শুরু হয়। এদিন ঘটনাটি তদন্তে কমিটি গঠন করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আতাউর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার অধ্যক্ষ সেলিম রেজাকে মারধরের ঘটনা জানার পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান এই তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। কমিটিকে যত দ্রুত সম্ভব সরেজমিনে ঘটনা বিস্তারিত জেনে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেন উপাচার্য। 

ইত্তেফাক/এএএম