শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সিলেটে ঘরে ফিরতে পারছে না ১১ হাজার বানভাসি

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২২, ০০:০৫

স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার একমাস পরও শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে সিলেট ও সুনামগঞ্জের বাসিন্দারা। বেশ কয়েক দিন তাপপ্রবাহের পর শনিবার রাতে মাত্র দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতে সিলেট নগরীর বাসাবাড়ি আবারও ডুবে যায়। ঈদের আগ থেকেই তপ্ত রোদে ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি, পেটেরপীড়াসহ পানিবাহিত নানা রোগে মানুষ কাতর। এমনি অবস্থায় শনিবার রাতে অঝোর ধারার বৃষ্টি নগরবাসীর ঘুম কেড়ে নেয়। 

শনিবার রাতের বৃষ্টিতে রাস্তায় রাস্তায় আটকা পড়ে বিভিন্ন যানবাহন। বাড়িঘর, হোটেলের নিচতলা, এটিএম বুথ ডুবে যায়। অনেকেই রাত জেগে ঘরের আসবাবপত্র সামাল দেন। এ যেন মধ্য জুনের সেই বন্যার পানির ফিরে আসা। রবিবার দিনভর আলোচনায় ছিল রাতের বৃষ্টি ও সিলেট নগরীর ভবিষ্যৎ বসবাস। বন্যা আশ্রয় শিবিরের মানুষেরা কবে বাড়ি যাবে তারও নিশ্চয়তা নেই। সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আহসানুল আলম জানান, সিলেটে বর্তমানে ২১৫টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে ১০ হাজার ৮১০ জন লোক এখনো অবস্থান করছেন।

সিলেটের নদ-নদী ও আবহাওয়ার গতি প্রকৃতি বড়ই অনিশ্চিত। কুশিয়ারা এখানো বিপৎসীমার উপরে। কুশিয়ারা অববাহিকার বাসিন্দাদের কষ্টের শেষ নেই। হাজার হাজার মানুষ এখানো পানিবন্দি। সিলেট আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, রাত ১১টা থেকে মাত্র ১ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। রবিবার সকাল ৬টায় ১৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। তিনি বলেন, বরাক উপত্যকায় প্রচুর বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৭ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টি থাকবে। তবে ১৮-২৩ জুলাই পর্যন্ত প্রচুর বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। গত জুনে ভয়াবহ বন্যার পর সুরমার পানি অনেকটা কমলেও এক মাসের বেশি সময় ধরেও কুশিয়ারার পানি নামছে না। ফলে ফেঞ্চুগঞ্জ বাজারের প্রধান সড়কে এখনো নৌকা চলে। কুশিয়ারার পানি না নামায় সিলেটের দক্ষিণ সুরমা, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জের একাংশ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলাবাসী যারপর নাই কষ্টে আছেন।

  • সিলেট নগরীর জলাবদ্ধতা কি আদৌ দূর হবে?

গত প্রায় এক যুগে সিলেট নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ এসেছে। জলের সমস্যা নিরসনে বরাদ্দকৃত সেসব টাকা জলেই গেল কিনা, নগরবাসীর মধ্যে এখন এমনটাই প্রশ্ন। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে টানা প্রায় এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে নগরীর বেশকিছু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে।

  • ১১টি ছড়া প্রবাহমান, তবুও জলাবদ্ধতা:

সিসিক সূত্র জানায়, সিলেট নগরীতে ছোট-বড় মিলিয়ে ১১টি ছড়া প্রবাহমান। এসব ছড়ার ১৬টি শাখা ছড়াও (খাল) আছে। এসব ছড়া-খাল সুরমা নদীতে গিয়ে মিশেছে। ছড়া-খালের দৈর্ঘ্য প্রায় ১১০ কিলোমিটার। এর বাইরে নালা-নর্দমা আছে ৯৭০ কিলোমিটার। নালা-নর্দমায় প্রায় সাড়ে ৬০০ কিলোমিটার পাকা ড্রেন আছে। সিসিকের প্রকৌশল শাখা জানায়, ২০০৯ সালে জলাবদ্ধতা নিরসনে ছড়া-খাল খনন ও রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণে ১১ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। ২০১২ সালে ২৭টি ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন নির্মাণে ব্যয় করা হয় ৪৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ২০১৩ সালে সিসিক মেয়র নির্বাচিত হন আরিফুল হক চৌধুরী। এ বছর জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন খাতে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা, ২০১৪ সালে ৭৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা, ২০১৫ সালে ১১ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। ২০১৬- ২০১৯ অবধি ২৩৬ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়।

সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান। তিনি বলেন, ঐ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতিতে ব্যয় হবে। তবে আমরা এখন অবধি প্রায় ৩০০ কোটি টাকা পেয়েছি। সে টাকায় কিছু কাজ হয়েছে, কিছু কাজ চলমান আছে। এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই নগরীতে জলাবদ্ধতা—এমন প্রশ্নের জবাবে নূর আজিজ বলেন, গত মাসের ভয়াবহ বন্যার পানিতে পলিমাটি ভেসে এসে আস্তরণ পড়েছে ড্রেনে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যততত্র ময়লা-আবর্জনা। এজন্য জলাবদ্ধতা। তিনি বলেন, দ্রুত ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা হবে। তবে ড্রেনের মাধ্যমে পানি যাতে দ্রুত নেমে যায়, সেজন্য নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। আমরা ড্রেনের মুখে জাল বসিয়েছিলাম। কিন্তু সেইসব নেট এখন নেই। নেট থাকলে পানি চলে যেত, ময়লা-আবর্জনা আটকে যেত।

ইত্তেফাক/ইআ