৩১ বছর পর...

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২২, ০৯:৩৭

টোকিও অলিম্পিকে পারেননি। সোনা জেতা মার্সেল ইয়াকবসের চেয়ে মাত্র ০.০৪ সেকেন্ড পেছনে থাকায় রৌপ্য নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। গত একটি বছর ধরে সেই আক্ষেপ তাকে তাড়িয়ে বেরিয়েছে। কিন্তু কোনোভাবেই হতাশাকে মনের ভেতর জায়গা করে নিতে দেননি। নইলে হয়তো বা আজ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নই হতে পারতেন না ফ্রেড কার্লি। যুক্তরাষ্ট্রের ইউজিনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটার ইভেন্টে সোনা জেতেন মার্কিন এই অ্যাথলেট।

ইভেন্টটিতে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জয়জয়কার। ৯.৮৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে সবার আগে ফিনিশিং লাইন স্পর্শ করেন কার্লি। ০.০২ সেকেন্ড সময় কম নিয়ে একই সঙ্গে দৌড় শেষ করে রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ জেতেন মারভিন ব্রেসি ও ট্রেবন ব্রোমেল। তারাও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা নিয়েই ট্র্যাকে নেমেছেন। ৩১ বছর পর এই প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ১০০ মিটার ইভেন্টে সোনা, রুপা, ব্রোঞ্জ তিনটি পদকই গেল যুক্তরাষ্ট্রের ঘরে। এর আগে ১৯৯১ সালে একসঙ্গে পদকের মঞ্চে দাঁড়িয়েছিলেন কার্ল লুইস (সোনা), লেরয় বারেল (রূপা), ডেনিস মিচেল (ব্রোঞ্জ)। তিন জনেরই আছে অলিম্পিক স্বর্ণপদক।

এবার একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি করতে পেরে উচ্ছ্বসিত কার্লি, ‘আমি বলেছিলাম, আমরা তা করতে যাচ্ছি এবং করেছিও। ক্লিন সুইপ করতে পেরে অসাধারণ লাগছে। কিংবদন্তিরা করেছিল ১৯৯১ সালে এবং ২০২২ এর কিংবদন্তিরা করল আজ (পরশু)।’

ইতিহাস গড়ার পথে নেতৃত্ব দিতে পেরে কার্লি আরো বেশি খুশি। ছেলেবেলায় যখন একটি ঘরে আরো ১২ জন শিশুর সঙ্গে গাদাগাদি করে ঘুমোতে হতো তখন স্বপ্ন দেখতেন পৃথিবীটাকে ঘুরে দেখার। সেই বিশ্বেরই বর্তমানে দ্রুততম মানব তিনি। বাবা যখন জেলে যায় তখন তার বয়স মাত্র দুই। ঐটুকু বয়সেই ছেড়ে চলে যায় মা। এক ভাই ও বোন দত্তক নেওয়া এক আন্টির কাছেই বেড়ে ওঠেন কার্লি।

নিজের শিকড়কে কখনো ভুলেন না। তাই প্রতিনিয়ত ছুটে চলেছেন নিজেকে উন্নত শিখরে নিয়ে যাওয়ার। স্কুলে ফুটবল খেলার সময়ে কণ্ঠাস্থি ভেঙে ফেলার পর অ্যাথলেটিকসে ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ২০১৯ সালের আগে কেবল ৪০০ মিটারে দৌড়তেন ২৭ বছর বয়সি এই অ্যাথলেট। কিন্তু গত বছর গোড়ালিতে আঘাত পাওয়ার পর থেকে শুধু ১০০ ও ২০০ মিটার ইভেন্টেই দেখা যায়।

বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের এবারের আসরের হিটে ক্যারিয়ার সেরা টাইমিং (৯.৭৬ সেকেন্ড) অর্জন করে তাক লাগিয়ে দেন কার্লি। তাতে বোঝাই যাচ্ছিল ফাইনাল ইভেন্টে বেশ জমজমাট এক লড়াই হবে। কিন্তু হিটে দৌড়ের সময় ইনজুরিতে পরায় ফাইনাল থেকে ছিটকে যান অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ইয়াকবস। ফাইনালে কার্লিকে বেশ ভালোই টক্কর দেওয়ার চেষ্টা করেন তার দুই স্বদেশি। কিন্তু কাউকেই ছাড়িয়ে যেতে দেননি কার্লি।

ইত্তেফাক/ইআ