পুরাতন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ব্যত্যয় প্রয়োজন

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২২, ০৫:১৪

আমরা জানি, বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন রহিয়াছে। এই সকল ট্রেড ইউনিয়ন দুই-একটির ক্ষেত্রে দেখা যায় না, বিশেষত যেই সকল জায়গায় বিদেশিরা ইনভেস্ট করিয়া থাকেন। অবশ্য ইহা লইয়াও নানা রকমের মত রহিয়াছে; কিন্তু এই সকল ক্ষেত্রেই বার্গেনিং বা দরকষাকষি আছে।

বাণিজ্যের ঐ সকল ক্ষেত্রে দরকষাকষি থাকা অস্বাভাবিক কিছু নহে; কিন্তু এই দরকষাকষি রাজনীতিতে চর্চিত হইলে তাহা কতটা গ্রহণযোগ্য? রাজনীতিতে একজন বলিতেছেন, অমুকের অধীনে অংশগ্রহণ করিব না, তমুকের সহিত যাইব না। ইহা দরকষাকষিরই অংশ; কিন্তু পার্থক্য হইল, কারখানায় যে বার্গেনিং এজেন্ট থাকে, তাহারা আর যাহাই হউক, প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হউক তাহা চান না বা প্রত্যাশা করেন না; কিন্তু রাজনীতিবিদরা তাহা ভাবেন না। তাহারা সকল কিছুর ঊর্ধ্বে প্রাধান্য দিয়া থাকেন নিজেদের দরকষাকষিকেই। রাজনীতিতে এই দরকষাকষি কিন্তু নূতন কিছু নহে। দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে এই দরকষাকষির বিষয়টি রহিয়াছে। 

আমাদের এই অঞ্চলেও পঞ্চাশের দশকেও রাজনীতিতে দরকষাকষি ছিল। তবে এই দরকষাকষি যতই অযৌক্তিক মনে হউক না কেন, তাহা কিন্তু সমাজকে, দেশের মানুষকে, বিশেষ করিয়া রাজনীতিবিদদের খতাইয়া দেখিতে হইবে। কতটা যৌক্তিক, কতটা অযৌক্তিক তাহা নির্লিপ্ত থাকিয়া বিবেচনা করিতে হইবে। ইহা যতই অনাকাঙ্ক্ষিত হউক না কেন, একটা ঐকমত্যে পৌঁছানো অত্যন্ত জরুরি। এই সকল পরিস্থিতিতে কোনো সমাধানে পৌঁছানো না গেলে তৃতীয় সুযোগসন্ধানী সুযোগ গ্রহণ করিবার জন্য ঘাপটি মারিয়া থাকে। আমরা সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ দেখিতে পাইতেছি না। বহু দেশেই রাজনীতিতে বয়কটের সংস্কৃতি প্রবেশ করিয়াছে। ও থাকিলে আমি থাকিব না, ও আসিলে আমি যাইব না—এই সংস্কৃতির ব্যত্যয় প্রয়োজন।

জগতে যতগুলি দেশ রহিয়াছে তাহার একেকটির জন্ম হইয়াছে একেকভাবে। কোনো দেশ আপসে চুক্তির মধ্য দিয়া স্বাধীনতা লাভ করিয়াছে, আবার কোনো দেশ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মধ্য দিয়া, সংগ্রাম করিয়া স্বাধীনতা লাভ করিয়াছে। যেইভাবেই নূতন দেশের জন্ম হউক না কেন, উহা তো একটি পরিবর্তন; কিন্তু যদি সেই পুরাতন ধাঁচের রাজনৈতিক সংস্কৃতি থাকে, তাহা হইলে দেখিতে হইবে, হিমালয় পর্বতসম দায়িত্ব স্কন্ধে লইবার ক্ষমতা আছে কি না। আবার উলটা দিক দেখিলে ইহাও বলিতে হয়, এই যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, অস্থিরতা তৈরি হয়, কেন হয়, সেইটাও দেখিতে হইবে। শিক্ষার ক্ষেত্রে একজন পরীক্ষার্থীকে পূর্বে বুঝিতে হয়, প্রশ্নকর্তা কী চাহিয়াছেন, অর্থাৎ কী জানিতে চাহিয়াছেন। 

আমাদের মতো উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশসমূহে স্বাধীনতা যেই পথেই আসিয়া থাকুক না কেন, যদি পুরাতন ধারাই অব্যাহত থাকে, তাহা হইলে স্থিতিশীলতা আসিবে কী করিয়া? একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি লিখিয়াছিলেন, দুর্নীতি নাই—এমন দেশ খুঁজিয়া পাওয়া যাইবে না; কিন্তু দুর্নীতি ছাড়া কিছুই চলিবে না—এইরকম পরিস্থিতি অপ্রত্যাশিত এবং অনাকাঙ্ক্ষিত। যদি এই সকল ক্ষেত্রে পরিবর্তনই না আসিল, তাহা হইলে পুরাতন সেই প্রবাদবাক্যই বলিতে হয়—যেই লাউ সেই কদু। তাহা হইলে সকল কিছু নিশ্চয়ই ঠিক হইবে; কিন্তু রক্ত ঝরিবার আশঙ্কা অস্বীকার করা যায় না। মোদ্দা কথা একটি দেশ বিপ্লবের পর, সংগ্রাম করিয়া স্বাধীনতা লাভ করিবার পর যদি পূর্বের মতোই সকল কিছু থাকে তাহা হইলে দেশ চলিবে না, স্থবির হইয়া পড়িবে।

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন