ডুমুরিয়ার ভদ্রা-তেলীগাতী নদীতে হঠাৎ কুমিরের আগমন, আতঙ্কে জেলে ও এলাকাবাসী

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২২, ০৪:৩৩

ডুমুরিয়া উপজেলার শোভনা এলাকার ভদ্রা-তেলিগাতী নদীতে হঠাৎ কুমির ভাসতে দেখে ভয়ে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছে। ক্ষুধার্থ কুমিরটি স্থানীয় এক যুবকের একটি ছাগল নদীর চর থেকে ধরে নিয়ে খেয়ে ফেলেছে ।

এলাকাবাসী জানান, ভদ্রা-তেলীগাতি নদীটি শিবসা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে সাগরে পড়েছে। দলছুট হয়ে কুমির ডুমুরিয়ার এ নদীতে এসে অবস্থান নিয়েছে বলে তাদের ধারণা। কুমিরটি নদীতে আসার পর দুটি জেলে নৌকায় আক্রমণ করায় জেলেরা নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া নদীর তীরে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ নদীতে নেমে গোসল করা, পানি নেওয়াও বন্ধ করে দিয়েছে।

জানা যায়, গত ৮ জুলাই সকালে উপজেলার ভদ্রা নদী-সংলগ্ন মঠবাড়িয়া গ্রামের জেলে মহিতোষ জাল নিয়ে নদীতে মাছ ধরতে যায়। এ সময় একটি কুমির তার নৌকায় হামলা করে। পরে মহিতোষ ও তার সহযোগী জেলেরা জাল ফেলে রেখে দ্রুত নৌকা নিয়ে কিনারে চলে আসেন। ঐ দিন দুপুরে নাসিমা বেগম নামে এক নারী তার বোনের ছেলে রাব্বিকে নিয়ে নদীতে পানি আনতে গেলে নদীর কিনারায় একটি কুমির ভাসতে দেখে। এ সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা কুমির দেখতে নদীর তীরে এসে ভিড় করেন। 

উপজেলার ভদ্রদিয়া গ্রামের মৎস্যজীবী হেলাল উদ্দীন বলেন, মাছ ধরার জন্য তীরমুনি এলাকায় নদীর কিনারায় গেলে সেখানে দুইটি কুমিরকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। আতংকে তিনি জাল-নৌকা ফেলে রেখে স্থানীয় লোকজনকে খবর দেন। খবর পেয়ে লোকজন নদীর পাড়ে ছুটে এসে ভাসমান কুমির দেখতে পান।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত কুমার বৈদ্য বলেন, ‘বেশ কিছু দিন ধরে আমাদের এলাকার নদীতে বড় সাইজের অন্তত চারটি কুমির দেখা যাচ্ছে। গত শুক্রবার জিয়ালতলা এলাকার ভদ্রা নদীর তীর থেকে একটি ছাগলও নিয়ে গেছে কুমির। এলাকার সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দিক বলেন, ‘নদীতে কুমির এসেছে—এ কথা শুনে আমি নিজে সেখানে গিয়েছি। ঘটনা সত্য। অনেক জেলেও ফোন করে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। আমরা ধারণা করছি, সাগর থেকে দলছুট হয়ে কুমির শাখা নদীতে প্রবেশ করেছে। জেলে ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সচেতনও করা হয়েছে। জেলেরা নদীতে কুমির ভাসতে দেখছে, নৌকায় কুমির আক্রমণও করছে। এমন পরিস্থিতিতে জেলেরা নদীতে মাছ শিকার বন্ধ রেখেছে। ’

ইত্তেফাক/ইআ