ত্রিশালের সবজি যাচ্ছে রাজধানীসহ সারাদেশে

আপডেট : ১০ জুন ২০১৯, ২১:৪৬

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

ত্রিশালের রামপুর ও সাখুয়া ইউনিয়নের ৮০ ভাগ কৃষক সারাবছরই উত্পাদন করছেন কচু, লতা, আলু, বেগুন, সিম, শসা, কুমড়া, করলা, ঢেঁরস, ডাটাসহ বিভিন্ন জাতের সবজি। আর এসব সবজি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাচ্ছে। বিভিন্ন প্রজাতির ১২ মাসিক সবজি ব্যাপকভাবে উত্পাদন হওয়ায় গ্রামের নাম রামপুর ও সাখুয়া হলেও এ অঞ্চলের মানুষের কাছে এখন সবজির গ্রাম হিসেবেই পরিচিতি লাভ করেছে।

সরেজমিনে সবজির গ্রামে দেখা গেছে, ঝুলছে সবুজ শসা, কুমড়া, করলা আর কচু ক্ষেতগুলো ছেয়ে গেছে লতিতে। পাইকারি ও খুচরা বিক্রির জন্য সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্ষেতগুলো থেকে তাজা সবজি ও লতি তুলে স্তূপ করা হচ্ছে। প্রতিদিন ট্রাক বোঝাই করে হাজার হাজার কুমড়া, টনকেটন শসা, করলা, লতি যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। ব্যাপকভাবে বিভিন্ন প্রজাতির শাকসবজি উত্পাদন হওয়ার ফলে গ্রামের ওইসব এলাকা ত্রিশালের মানুষের কাছে এখন সবজির গ্রাম হিসেবেই পরিচিতি লাভ করেছে।

উপজেলার সাখুয়া উত্তরপাড়া গ্রামের কৃষক আবদুল গনি জানান, আট কাঠা জমিতে কচুর আবাদ করে লতির বেশ ভালো ফলন পেয়েছি। দুই/তিন মাস লতি বিক্রির পর কচু বিক্রি করা যাবে। এতে প্রায় তিন লাখ টাকারও বেশি লাভ হবে বলে আশা করছি।

বেকার থেকে কর্মসংস্থান হিসেবে সবজি চাষ বেছে নেওয়া রামপুরের যুবক লিটন মিয়া জানান, ২০/২৫ হাজার টাকা খরচ করে চার কাঠা জমিতে শসার আবাদ করেছি। যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসে তাহলে এই মৌসুমে খরচের দ্বিগুণ লাভ হবে।

একই গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, সারা বছর করলা, শসা, বেগুনসহ বিভিন্ন শাকসবজির চাষ করে সংসার ও তিন ছেলের লেখাপড়ার খরচ খুব ভালোভাবেই মিটে যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শোয়েব আহমেদ জানান, শাকসবজি উত্পাদনে উপযোগী মাটি বলেই ওই এলাকাগুলোতে ভালো ফলন হয়। চাষিরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করি।