মাধবপুর লেক উন্নয়নে বরাদ্দ অর্থ ফেরত যাওয়ার আশঙ্কা!

আপডেট : ১০ জুন ২০১৯, ২১:৪৭

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

চায়ের দেশ মৌলভীবাজারের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম কমলগঞ্জের মাধবপুর লেক। চা বাগান ঘেরা এই লেক দেখতে প্রতিবছর অনেক পর্যটক উপস্থিত হলেও এটি উন্নয়ন বঞ্চিত রয়ে গেছে। এদিকে এই লেককে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন ২০১৭ সালে ইকো ট্যুরিজম গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিলে পর্যটন সুবিধা বৃদ্ধিকল্পে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড অগ্রিম বরাদ্দ দেয়। তবে ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি) চা শিল্পের জন্য মাধবপুর লেক পর্যটন শিল্প প্রসার বহির্ভূত রাখতে চাওয়ায় বরাদ্দ ফেরত যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ইকো ট্যুরিজম, উন্নয়ন বঞ্চিত হচ্ছে পর্যটন এলাকা মাধবপুর লেক।

কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে সম্মেলনে জেলা প্রশাসক মাধবপুর লেককে ইকো ট্যুরিজম গড়ে তুলতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এরপর দুটি টয়লেট নির্মাণ, একটি গভীর নলকূপ স্থাপন, দুটি ট্যুরিস্ট মাশরুম সেড, লেকে উঁচু সিড়ি ও ঘাট নির্মাণসহ পর্যটন সুবিধা বাড়াতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ৩৬ লাখ ৪০ হাজার ৯০০ টাকা বরাদ্দ দেয়। তবে এনটিসির মাধবপুর চা বাগান ব্যবস্থাপক চৌধুরী মুরাদ আহমদ বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া অনাপত্তিপত্র না দেওয়ায় বরাদ্দ কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের কাছে এখনো ঝুলে আছে। পর্যটন উন্নয়নের কাজ না হলে টাকা ফেরত যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসন, চা বাগান ব্যবস্থাপক ও এনটিসির ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে চিঠি চালাচালি হয়েছে। 

এনটিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল আউয়াল বলেন, বিষয়টি বোর্ডের সভায় উত্থাপন করা হবে, বোর্ড যে সিদ্ধান্ত দেবে সেটাই কার্যকর হবে।

তবে মাধবপুর ইউপি চেয়ারম্যান পুস্প কুমার কানুসহ স্থানীয়রা জানান, এনটিসি ও পর্যটন করপোরেশন উভয়ই সরকারি প্রতিষ্ঠান। আর সরকারি জমি বন্দোবস্ত নিয়ে চা বাগান করা হয়েছে। এখানে মাধবপুর লেকের পর্যটন উন্নয়নে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও কিভাবে এনটিসি আপত্তি জানাবে। তারা মনে করেন, জেলা প্রশাসক চাইলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে মাধবপুর লেকের উন্নয়নের কাজ করতে পারেন।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশেকুল হক বলেন, এনটিসির অধীন মাধবপুর চা বাগান লিজ ভূমিতে অবস্থিত। লেকের উন্নয়ন কাজের জন্য বাগান ব্যবস্থাপক ও এনটিসি কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে অনাপত্তির আবেদন করা হয়। তবে বাগান কর্তৃপক্ষ চা বাগানের ক্ষতির আশঙ্কায় অনাপত্তিপত্র দেওয়া সম্ভব নয় মর্মে অবহিত করে। তিনি আরো বলেন, সমস্যা সমাধানে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে।