টানা চার লিগে শিরোপা জয়ের টার্গেট

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২২, ১৬:৪২

বসুন্ধরা গ্রুপের করপোরেট অফিসে হ্যাটট্রিক লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসানের অফিস রুমে ফুলে ফুলে ভরে গেছে। মিষ্টি কেক খাওয়ানো আর অভিনন্দনের বার্তায় ভাসছেন ইমরুল। আর বারবার একটা কথা বললেন, আরে ভাই আমাকে অভিনন্দন জানিয়ে কী লাভ? আপনারা খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের অভিনন্দন জানান। ম্যানেজার আছে কোচিং স্টাফ রয়েছে, তাদের হাতে তুলে দিন এই ফুল।’

অনুরোধে ঢেকি গিলছেন ইমরুল। মোহামেডানের আবু হাসান প্রিন্স, বাফুফের সদস্য ইলিয়াস হোসেন, মুক্তিযোদ্ধার আরিফুল ইসলামসহ নানা ক্লাবের লোকজন এসে কে কার আগে অভিনন্দন বার্তা দেবেন তার ছোট-খাটো একটা প্রতিযোগিতা হয়ে গেলো। ফাঁকে ফাঁকে ইমরুল তার অফিসের কাজ-কর্ম করে যাচ্ছিলেন। বাইরে থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দ র‌্যালি হতে ব্যান্ডবাদ্য বাজানোর আওয়াজ আসছিল। এরই মধ্যে সংবাদমাধ্যমের ভিড়। নানা প্রসঙ্গে নিয়ে কথা উঠল ইমরুল হাসানের টেবিলে।

দেশের ফুটবলে আবাহনী ও মোহামেডানের লিগ শিরোপা জয়ে হ্যাটট্রিক করেছে বসুন্ধরা কিংস। অভিষেকেই হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা বাড়তি গৌরব বসুন্ধরার। এখন তাদের লক্ষ্য টানা চার শিরোপা জয় করা। বসুন্ধরা কিংস যদি টানা চারটি লিগ শিরোপা জয় করে তাহলে তারা ফুটবলে ইতিহাসের পাতায় সবার আগে নাম লেখাতে পারবে। এই রেকর্ড আর কারো নেই। ১৯৮৩, ১৯৮৪, ১৯৮৫ লিগে চ্যাম্পিয়ন হয় আবাহনী। ১৯৮৬, ১৯৮৭, ১৮৮ লিগে মোহামেডান চ্যাম্পিয়ন হয়। পেশাদার ফুটবল লিগের যুগে প্রথম তিন আসরে আবাহনী হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হয়। কিন্তু কোনো দল স্বাধীনতার পর টানা চারটি লিগ শিরোপা জয় করতে পারেনি। সেই রেকর্ডে চোখ কিংসের।

ক্লাব সভাপতি ইমরুল হাসান জানালেন টানা চার শিরোপা জয়ের রেকর্ড কারো নেই সেটাই আমরা করতে চাই।’

আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন হতে এখনই দলটা গোছানো সম্পন্ন করে ফেলেছেন ইমরুল। কিন্তু খোলামেলা কথা বলেননি তিনি। তারা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য দল গড়ার কাজ এগিয়ে রেখেছেন। বিদেশি দুই জনকে বদল করার সম্ভাবনা রয়েছে। নাম বলেননি। ব্রাজিলিয়ান রবসনকে এরই মধ্যে আরও দুই বছরের জন্য নেওয়া হয়েছে। আর নুহা মারংকে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশি ফুটবলারদের প্রশংসা করে ইমরুল বলেন, ‘রবসনের সঙ্গে ইতিমধ্যে আমরা চুক্তি নবায়ন করেছি। হয়তো বাকি পজিশনগুলোতে বিদেশি তালিকায় পরিবর্তন আসবে।’

দেশি ফুটবলারদের প্রসঙ্গে ক্লাব সভাপতি বলেন, ‘আমাদের ঢাকার বাজারে একটা কথা প্রচলিত আছে যে খেলার ফল ঘুরিয়ে দিতে বিদেশি প্লেয়াররাই যথেষ্ট। বিদেশি প্লেয়াররা নিঃসন্দেহ একটা ভালো ভূমিকা রাখে। তবে যদি এবারকার খেলা নিয়ে বিশ্লেষণ করে দেখি, তিন থেকে চারটি ম্যাচ ছাড়া কোনো ম্যাচে কিন্তু আমরা সব বিদেশিকে একসঙ্গে খেলাতে পারিনি। বিশেষ করে প্রথম পর্বে আমরা একজন বিদেশি নিয়ে সাত-আটটি ম্যাচ খেলেছি। সেখান থেকে আমরা জয় নিয়ে ফিরিয়ে এসেছি। এটা কিন্তু আমাদের দেশিয় প্লেয়ারদের পারফরম্যান্সের কারণেই সম্ভব হয়েছে। দেশি প্লেয়ার যারা ছিলেন, তারা তাদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছেন এবং যেহেতু তারা আমাদেরকে একটা সাফল্য এনে দিয়েছেন আমরা চাইব পরবর্তী মৌসুমে তাদের ধরে রাখতে। কারণ আমরা বলতে পারি আমাদের কাছে কোনো খেলোয়াড়ের বকেয়া নেই।’

ফুটবল লিগে একই কোচের অধীনে অন্য কোনো ক্লাব হ্যাটট্রিক শিরোপা জয় করেনি, যেটা করল বসুন্ধরা কিংস। কিন্তু ফুটবল অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনের কারিগর স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজন দল ছাড়ছেন। কথাটা শুনেই পাল্টা প্রশ্ন করলেন, ‘কী কারণে চলে যাবেন কোচ। আপনি বলেন কী কারণে কোচ রাখবো না। একটা কারণ দেখান। যাকে দিয়ে আমি সাফল্য পেয়েছি তাকে রাখব না কেন। অস্কার নিশ্চয়ই এমন কোনো অযৌক্তি দাবি করবে না যে আমরা তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হবো।’

প্রিমিয়ার লিগে সরাসরি খেলার সুযোগ পায় বসুন্ধরা। টানা মৌসুমে হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের পেছনের কথা বলতে গিয়ে ইমরুল বললেন, ‘আমাদের কোচিং প্যানেলের অক্লান্ত পরিশ্রম, একাগ্রত, নিষ্ঠার ফলেই খেলোয়াড়রা উজাড় করে দিতে পেরেছে। আর পেছনের কথা বলতে গেলে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকপক্ষ নিরলস উত্সাহ-উদ্দীপনা ছিল বলেই আমরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পেরেছি। আমরা যখন যে পরিকল্পনা করেছি মালিক পক্ষ আমাদেরকে অনবরত উত্সাহ দিয়ে গেছেন। আমাদের প্রতিটা ম্যাচ চেয়ারম্যান স্যার টিভিতে দেখেন (আহমেদ আকবর সোবহান) এবং প্রত্যেক ম্যাচের পর ফোন করে ভুলত্রুটিগুলো ধরিয়ে দেন। হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরই ফোন দিয়ে সবাইকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।

ইত্তেফাক/টিএ