জবিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অদক্ষতায় ব্যাহত দাপ্তরিক কার্যক্রম!

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২২, ০১:৫৫

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী রফিক উদ্দীন মাস্টার্স (স্নাতকোত্তর) পরীক্ষার ফলাফল পেয়েছেন জুনের ৮ তারিখ। সম্প্রতি তিনি তার সার্টিফিকেটের জন্য যান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে। সেখানে গিয়ে সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য (সাধারণ) আবেদন করেন নির্ধারিত কর্মকর্তার নিকট। সাধারণ আবেদন করলে এক সপ্তাহের মধ্যে সার্টিফিকেট পাওয়ার কথা। রফিক দুই সপ্তাহ পর গেলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা তাকে বলেন, আপনার ফলাফল প্রসেসিং হয়নি, সার্টিফিকেট দেওয়া যাবে না। ফলাফল পাওয়ার পর সার্টিফিকেট তুলতে গিয়ে এমন কথায় বিস্মিত হন ঐ শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অধরা বিশ্বাস বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড হারিয়েছেন গত বছরের জুনে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নতুন আইডি কার্ডের জন্য আবেদন করেন। আবেদনের এক বছর কেটে গেলেও পাননি নতুন আইডি কার্ড। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিকট চার-পাঁচ বার গিয়েছেন আইডি কার্ডের খোঁজ নিতে। সেই শিক্ষার্থীর অভিযোগ প্রথমে করোনার অজুহাত, পরে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার বিষয় এবং বিভাগ থেকে আইডি কার্ড সংগ্রহ করার কথা বলে এড়িয়ে যান বিষয়টি।

জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ৩৬টি বিভাগ ও দুইটি ইনস্টিটিউট। সময়ের পালাবদলে এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বিভাগের সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি পর্যাপ্ত পরিমাণ লোকবল। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের সার্বিক দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব সেকশন অফিসারের হলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিভাগেই নেই নূ্যনতম একজন সেকশন অফিসার। আবার যেসব বিভাগে সেকশন অফিসার রয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকে নিজ দায়িত্ব পালনে তেমন দক্ষ নন।

অপরদিকে অনেক বিভাগে অফিস সহকারীদের দিয়েই করানো হচ্ছে নির্ধারিত দাপ্তরিক কাজ। সেক্ষেত্রে একজন আরেক জনের কথা বলে দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতাও রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরেও একই চিত্র। বিভিন্ন সময়ে বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রশংসাপত্র, মিডিয়া ইনস্ট্রাকশন সার্টিফিকেটের জন্য গেলে সময়ক্ষেপণ করেন কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী। ইংরেজি ভাষা, কম্পিউটার টাইপিংয়ে তেমন দক্ষ না হওয়ায় বেশি সময় নেন তারা। এতে ভোগান্িতর শিকার হন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকদের অভিযোগ, অনেক কর্মকর্তা বিভাগের রেজাল্ট শিট তৈরি করতে দক্ষ নন। এতে ফল প্রকাশে সময়ক্ষেপণ হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনতে আইসিটি সেল প্রতিষ্ঠা করা হলেও আইসিটি সেলের কর্মচারীদের কারিগরি দক্ষতায় রয়েছে বিরাট ঘাটতি। অভিযোগ রয়েছে প্রযুক্তিগত সমস্যার ফলেও শিক্ষার্থীরা তাদের সার্টিফিকেট সময়মতো পায় না পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে। আইসিটি সেলের নিজস্ব ব্যবস্হাপনায় সার্টিফিকেট মুদ্রণ করা হয়।  আইসিটি সেলে পর্যাপ্ত কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন জনবল না থাকায় দ্রুত সময়ে শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেটগুলো মুদ্রণ করা সম্ভব হয় না। এতে সার্টিফিকেটগুলো পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে পৌঁছায় দেরিতে। সংশ্লিষ্টদের অভিমত, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত সাধারণ ও কারিগরি প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে পারলে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক ড. উজ্জ্বল কুমার আচার্য্য বলেন, আইসিটি সেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও এটি আয়োজন করা হয় আবার বাইরে থেকেও করা হয়। এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি জহুরুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দক্ষ। মাঝেমধ্যেই তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কিছুদিন আগেও তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারিগরি জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। তবে কোন বিভাগ বা দপ্তরের চাহিদাসাপেক্ষে আমরা আবারও প্রশিক্ষণের ব্যবস্হা করব। দৈনন্দিন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি