শ্রীলঙ্কায় বিবিসির সাংবাদিকদের ওপর হামলা

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২২, ১৫:১৪

শ্রীলঙ্কায় বৃটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। কলম্বো থেকে বিবিসি নিউজের সাংবাদিক আনবারসান ইথিরাজান বলেন, "যখন আমরা শুনলাম যে সৈন্যরা মধ্যরাতের পরপরই কলম্বোতে সরকার-বিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর অভিযান চালাচ্ছে, তখন আমরা শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের ঠিক সামনে ঘটনাস্থলে যাই।"

সঙ্গে সঙ্গেই শত শত অস্ত্র নিয়ে সেনাবাহিনী এবং দাঙ্গার পোশাক পরা পুলিশ কমান্ডোরা দুই দিক থেকে ছুটে আসে। তাদের মুখ ঢাকা ছিল।

আন্দোলনকর্মীরা সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানালে নিরাপত্তা কর্মীরা তাদের ওপর চড়াও হয়। তখন আন্দোলনকারীদের পিছু হটে। 

কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে দেখা যায় সেনারা চিৎকার করছে, ফুটপাতে স্থাপিত অস্থায়ী তাঁবু এবং অন্যান্য জিনিসপত্র ভেঙে ফেলছে। সেনারা প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের ভেতরেও যায় যেখানে গত সপ্তাহে বিপুল সংখ্যক জনতা ঢুকে পড়েছিল।

এর আগে আন্দোলনকর্মীরা বলেছিলেন, তারা শুক্রবার বিকেলে ভবনটি হস্তান্তর করবেন। বিবিসি সেনাদের অনুসরণ করছিল এবং দেখছিল যে তারা তাদের পথে সবকিছু পরিষ্কার করছে।

বিক্ষোভকারীদের ১০০ মিটারেরও কম দূরে থাকা নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলে ঠেলে দেওয়া হয় এবং আন্দোলনকর্মীদের থামাতে স্টিলের ব্যারিকেড বসানো হয়।

বিবিসির আনবারসান ইথিরাজান জানাচ্ছেন: "আমরা যখন ওই এলাকা থেকে ফিরছিলাম, তখন বেসামরিক পোশাক পরা এক ব্যক্তি যাকে সেনারা ঘিরে রেখেছিল সে আমার সহকর্মীকে চিৎকার করে বলেছিল যে, সে তার ফোন থেকে ভিডিওগুলো ডিলিট করতে চায়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে লোকটি আমার সহকর্মীকে ঘুষি মেরে তার ফোন ছিনিয়ে নেয়।"

"যদিও আমি তাদের বুঝিয়েছি আমরা সাংবাদিক এবং আমরা কেবল পেশাগত দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু তারা কোন কিছুই শোনেনি। আমার সহকর্মীকে আবারো আক্রমণ করা হয় এবং আমরা তখন তীব্র আপত্তি জানাই।" বিবিসির আরেক সহকর্মীর মাইক কেড়ে নিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।

ফোন থেকে ভিডিওগুলো ডিলিট করার পর সেটি আবার ফেরত দেওয়া হয়। সেসময় আরেক জন সেনা কর্মকর্তা এগিয়ে আসেন এবং আমাদের ছেড়ে দেন।

পরিস্থিতির আকস্মিকতায় বিবিসির সহকর্মী ভীষণ ধাক্কা খেলেও কয়েকশো মিটার দূরে হোটেলে ফিরতে সক্ষম হয়েছিল।

বিবিসি হামলার বিষয়ে সেনাবাহিনী এবং পুলিশের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু কেউ ফোনকলে সাড়া দেয়নি।
দেশটিতে গত সপ্তাহে জারি করা জরুরি অবস্থা এখনও বহাল রয়েছে।

বিক্রমাসিংহে দেশটিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করতে চান যাতে করে তিনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাথে প্রায় তিন বিলিয়ন ডলারের একটি বেলআউট কর্মসূচী নিয়ে আলোচনা আবারো শুরু করতে পারেন।

শ্রীলঙ্কা কয়েক মাস ধরে বিক্ষোভে জর্জরিত হচ্ছে, কারণ দেশটি কার্যকরভাবে দেউলিয়া এবং খাদ্য, জ্বালানি এবং অন্যান্য মৌলিক সরবরাহের তীব্র ঘাটতি রয়েছে।

গত সপ্তাহে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাজাপাকশা এবং  বিক্রমাসিংহের পদত্যাগের দাবিতে কলম্বোর রাস্তায় বিক্ষোভ করেছে।

মি. রাজাপাকশা গত ১৩ই জুলাই ভোরে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। এর আগে বিক্ষোভকারীরা তার রাজনৈতিক বাসভবন দখল করে। তিনি মালদ্বীপ যান এবং সেখান থেকে পরে সিঙ্গাপুরে পৌঁছান। সেখান থেকেই তিনি তার আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জারি করেন।

তবে যাই হোক মি. বিক্রমাসিংহে বিক্ষোভের প্রথম দিকে পদত্যাগের প্রস্তাব দিলেও শেষমেশ আর পদত্যাগ করেননি। বরং মি. রাজাপাকশা পালিয়ে যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণ করেন তিনি।

বিক্ষোভকারীরা সরকারি ভবনগুলো দখল করে নেয়ার পর গত সপ্তাহে তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করার সময়, সামরিক বাহিনীকে শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

চলতি সপ্তাহেও যেকোন ধরণের স্ফুলিঙ্গ প্রতিরোধ করতে তিনি একটি জাতীয় জরুরি অবস্থার আদেশও বাড়িয়েছেন।

গত ছয়বারের প্রধানমন্ত্রী, বিক্রমাসিংহে রাষ্ট্রপতির জন্য তার আগের দুটি নির্বাচনে ব্যর্থ হন। বুধবার তার বিজয়ের অর্থ হল তিনি ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

ইত্তেফাক/এসআর