প্রবল বৃষ্টিতে গোপালগঞ্জ-কোটালীপাড়া-পয়সারহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের অন্তত ১৫ স্থানে ভাঙনের সৃষ্টি হইয়াছে এবং যানবাহন চলাচলে অসুবিধা হইতেছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ভাঙন সৃষ্টি হইয়া যান চলাচল একেবারেই বন্ধ হইবার আশঙ্কাও তৈরি হইয়াছে। গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগ সূত্রমতে, ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ গোপালগঞ্জ-কোটালীপাড়া-পয়সারহাট সড়কটি ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেন। চলতি বত্সর ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি সংস্কারও করা হয়। ইতঃপূর্বেও সড়কটি সংস্কারে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হইয়াছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই পার্শ্বে মাটি দিয়া বাঁধ তৈরি করিয়া তাহার মধ্যখানে বালু ফেলিয়া সড়কটি নির্মাণ করা হইয়াছে। ফলে বর্ষণ হইলেই সড়কটির সোল্ডারে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। মাঝেমধ্যে বালির বস্তা ও মাটি ফেলিয়া সড়কটির ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ইহাতে ভোগান্তি কমে না।
দেশের অন্যান্য অঞ্চলের দিকে নজর ফিরাইলেও সম্পূর্ণ অক্ষত সড়ক-মহাসড়ক খুঁজিয়া পাওয়া দুষ্কর হইবে। দেখা যাইবে, জেলা ও আঞ্চলিক মহাসড়কগুলির অবস্থা আরো খারাপ। সড়ক-মহাসড়কগুলির অনেক স্থানেই ভাঙাচোরা, সামান্য বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত, কিংবা অনেক সড়কের বিভিন্ন অংশ অসমাপ্ত অবস্থায় পড়িয়া থাকিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হইতেছে। সড়ক নির্মাণে এক শ্রেণির দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা ও কনট্রাকটরের যোগসাজশে নিম্নমানের সরঞ্জাম ব্যবহার ইহার অন্যতম কারণ। তদুপরি রাস্তায় জলাবদ্ধতা এবং অতিমাত্রায় ওভারলোডেড ট্রাক চলাচলের কারণেও সড়কগুলির বিস্তর ক্ষতি হইতেছে। গত বত্সর যে সড়ক সংস্কার করা হয়, বত্সর না যাইতেই তাহার বেহাল দশা হয়। কেবল দেশ জুড়িয়া ছড়াইয়া-ছিটাইয়া থাকা সড়ক-মহাসড়কগুলি নহে, রাজধানীসহ বিভিন্ন নগর এবং শহরগুলিতেও অসংখ্য ক্ষতবিক্ষত সড়কের দেখা মিলিবে। ফলে একদিকে যেমন জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনা বাড়িতেছে, তেমনই অন্যদিকে পরিবহনগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হইতেছে।
সমগ্র দেশে মহাসড়ক এবং আঞ্চলিক সড়ক মিলাইয়া ২২ হাজার কিলোমিটারের মতো রাস্তা আছে। বর্ষা মৌসুম সমাগত, অনেক সড়কের নাজুক অবস্থা হইবে। তাহার উপরে সামনেই ঈদুল আজহা। ফলে মহাসড়কে চাপ কয়েক গুণ বাড়িয়া যাইবে। এই ধরনের কোনো উত্সব আসিলেই হুড়োহুড়ি করিয়া অ্যাডহক ভিত্তিতে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়, ফলে তাহা টেকসই বা স্থায়ী সমাধান হয় না। সড়ক বিশেষজ্ঞরা বলিতেছেন, মহাসড়কগুলির টেকসই সমাধানের উদ্যোগ না নেওয়ায় অনেক মহাসড়কের বেহাল দশা থাকিয়াই যাইতেছে।
সড়ক ও মহাসড়কগুলির নিরন্তর পরিচর্যাও প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর যে একেবারে কাজ করিতেছে না ইহা বলা যায় না, কিন্তু প্রয়োজন সমন্বিত তত্ত্বাবধানের। পরিচর্যার ভার কেবল সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কাঁধে চাপাইয়া দিলে চলে না। স্থানীয় সরকার প্রশাসনগুলি এইক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করিতে পারে। সময়মতন সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টকে জানাইয়া এবং স্থানীয় পর্যায় হইতে সহায়তার হাত বাড়াইয়া দেওয়াটা কোনো জটিল কর্ম নহে। তাহাতে বিশেষ ফল পাওয়া যাইত বলিয়াই আমাদের ধারণা। কিন্তু তাহারা সেই দায়িত্ব কাঁধে লইতেছেন কি? কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ করিয়া নির্মিত যে সড়ক একটু যত্ন-আত্তিতে অনায়াসে অনেক বত্সর টিকিয়া থাকিতে পারিত, তাহা নির্মাণের অল্প কিছুদিন বাদেই ভাঙিয়া চলাচলের অযোগ্য হইয়া পড়িতেছে। দেশে যাতায়াতের ৮৮ ভাগ এবং মালামালের ৮০ ভাগ পরিবহন করা হয় সড়কপথে। ফলে সড়ক-মহাসড়কগুলিকে গুরুত্বের তালিকায় প্রথম দিকেই স্থান দিতে হইবে। আমরা আশা করিব, সংশ্লিষ্ট সকলেই বিষয়টি বিবেচনায় রাখিবেন।
