বরিশালের ঐতিহ্যবাহী দুর্গাসাগর দীঘি পর্যটকবান্ধব করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চারদিকে সবুজে ঘেরা এই দীঘি দেখে মানুষ মুগ্ধ হন। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডরের পরে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছিল দুর্গাসাগর। এরপর প্রায় এক যুগ অতিথি পাখির দেখা না মেলায় কমতে শুরু করেছিল দর্শনার্থীদের সংখ্যা। পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য নেওয়া হয় নানা উদ্যোগ। তাতেই বিগত তিন-চার বছর ধরে অতিথি পাখির ঝাপটায় আলোড়িত হচ্ছে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী দুর্গাসাগরের পানি। অতিথি পাখিদের বিচরণ কেন্দ্র হিসেবে খ্যাতি অর্জনকারী দুর্গাসাগরের সেই হারানো ঐতিহ্য ফিরে আসতে শুরু করায় পর্যটকদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে পারিবারিক বিনোদনকেন্দ্রের রূপ নিয়েছে এ দীঘি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, অতিথি পাখিদের বিচরণের জন্য সেখানে শাপলার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুর্গাসাগরকে আকর্ষণীয় পর্যটন স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে পর্যটন করপোরেশনের মাধ্যমে উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের পরিচালক নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের আওতায় রেস্ট হাউজ, ফুলবাগান, সেমিপাকা পিকনিক সেড, শপিং সেন্টার, ২৫০ কেভিএ সাবস্টেশন, সোলার সিস্টেম, ওয়াইফাই, পার্কিংসহ নানা স্থাপনার কাজ করা হচ্ছে।
বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার ইত্তেফাককে জানান, বর্তমান সরকারের যে সব ইনোভেটিভ কার্যক্রম রয়েছে তার মধ্যে একটা হলো জেলা ব্র্যান্ডিং। বিভিন্ন জেলার নিজস্ব পণ্য, ঐতিহ্য ও সম্পদ ব্যবহার করে একদিকে দেশের উন্নয়ন অন্যদিকে জেলা ও অঞ্চলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করাই হলো এর লক্ষ্য। বরিশাল জেলাকে বাইরের মানুষের কাছে আকর্ষণীয় করতে তিনটি বিষয়ে নিয়ে কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে পর্যটনশিল্প।
জেলা প্রশাসক বলেন, পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে যেসব স্থাপনা বিবেচনা করা হয়েছে তার প্রথমেই রয়েছে দুর্গাসাগর। দুর্গাসাগরকে পর্যটকদের কাছে আরো আকর্ষণীয় করতে ইতিমধ্যেই সেখানে বিভিন্ন দেশীয় দুর্লভ প্রজাতির মাছ ছাড়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির হাঁস ও কবুতর পালন করা হচ্ছে। এর সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে। এছাড়াও মিনি চিড়িয়াখানা স্থাপন করা হয়েছে। আকর্ষণীয় রাইডসহ মিনি শিশুপার্ক রয়েছে। পাশাপাশি পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীন ১৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। আগামী বছরের জুনের মধ্যে এই প্রকল্প শেষ হলে দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হবে দুর্গাসাগর।
উল্লেখ্য, বরিশাল জেলা শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে বরিশাল-বানারীপাড়া-স্বরূপকাঠি সড়কের পাশে ঐতিহাসিক দুর্গাসাগর দীঘির অবস্থান। ৪৫ একর ৪২ শতাংশের আয়তনের এ স্পটের দীঘির জলাধার হচ্ছে ২৭ একর ৩৮ শতাংশ। দীঘির চারপাশের অবশিষ্ট ১৮ একর ৪ শতাংশে আছে বৃক্ষের সমারোহ। চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের পঞ্চদশ রাজা শিব নারায়ণ ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দে এলাকাবাসীর পানি সংকট নিরসনের জন্য মাধবপাশায় ঐতিহাসিক এ দীঘিটি খনন করেন। তার স্ত্রী রানি শ্রীমতী দুর্গারানীর নামানুসারে এ দীঘির নামকরণ হয়। ১৯৯৬ সালে এই দীঘিকে দুর্গাসাগর দীঘি উন্নয়ন পাখি অভয়ারণ্যের প্রকল্পের আওতায় এনে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দেওয়া হয়।
