রপ্তানিতে স্বস্তি

আপডেট : ১০ জুন ২০১৯, ২১:৫৮

বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাত রপ্তানি বাণিজ্যে স্বস্তিদায়ক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। যদিও দেশের রপ্তানি খাত যে এখনো পোশাকশিল্প নির্ভর, সেটা পরিসংখ্যান দেখলে সহজেই বোঝা যায়। এ খাতে ভালো করলে সার্বিকভাবেও রপ্তানিতে ভালো হয়। আর যখন এ খাতের রপ্তানি কমে যায় তখন মোট রপ্তানিতেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে এমনটাই হয়ে আসছে। গত মে মাস পর্যন্ত সময়ে তৈরি পোশাকশিল্পের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে। ফলে প্রবৃদ্ধিও ভালো হয়েছে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রথম ১১ মাসে সার্বিক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ। আর পোশাক খাতে (ওভেন ও নিট মিলে) রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৮২ শতাংশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৫৪০ কোটি ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৭৭৫ কোটি ডলার। সে হিসাবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি আয় হয়েছে। গত বছর একই সময়ে আয় হয়েছিল ৩ হাজার ৩৭২ কোটি ৮৮ লাখ ডলার।

একক মাস হিসেবে মে মাসে মোট ৩৮১ কোটি ৩৩ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই মাসে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৩২ কোটি ২৪ লাখ ডলার। সে হিসাবে আগের অর্থবছরের মে মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের মে মাসে ১৪ দশমিক ৭৮ বেশি রপ্তানি হয়েছে।

ইপিবি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে নিট পোশাক রপ্তানি করে আয় হয়েছে ১ হাজার ৫৬৮ কোটি ২৪ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ বেশি। এ সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৪৬৫ কোটি ৯২ লাখ ডলার। এ সময়ে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি আয় হয়েছে। গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে আয় হয়েছিল ১ হাজার ৩৯৪ ডলার। আর গত জুলাই থেকে মে মাস পর্যন্ত সময়ে ওভেন পোশাক রপ্তানি করে ১ হাজার ৬০৫ কোটি ১৪ লাখ ডলার আয় হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ১৩ শতাংশ বেশি। আর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৬ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি। এ সময়ে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৫০১ কোটি ২৩ লাখ ডলার। আর গত অর্থবছরে একই সময়ে এ খাতে আয় হয়েছিল ১ হাজার ৪১৮ কোটি ৮৫ লাখ ডলার।

অন্যদিকে স্পেশালাইজড টেক্সটাইল খাতের প্রবৃদ্ধি ও লক্ষ্যমাত্রা ইতিবাচক হলেও হোম টেক্সটাইল খাতে লক্ষ্যমাত্রা ও প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হয়ে গেছে। স্পেশালাইজড টেক্সটাইল খাতে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৩ কোটি ৭৭ লাখ ডলার, যা গত বছরের চেয়ে ৩৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেশি। হোম টেক্সটাইল খাতের রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের চেয়ে দুই দশমিক ৬৯ শতাংশ কম হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে এ খাতে আয় হয়েছে ৮০ কোটি ৮ লাখ ডলার।

এছাড়া প্রাইমারি কমোডিটিজ, কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য, কেমিক্যাল পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, সিরামিক পণ্য, হ্যান্ডিক্র্যাফটসহ বেশিরভাগ পণ্যে ভালো রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, সিমেন্টসহ কয়েকটি পণ্যে প্রবৃদ্ধি কমে গিয়েছে।