বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

নাজিরপুরে হারিয়ে যাচ্ছে হাত করাতি

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২২, ১৮:৪১

নাজিরপুরে করাতি সম্প্রদায় আজ আর তেমন নেই। কালের বিবর্তন প্রযুক্তির ছোঁয়া ও জীবন-জীবিকার তাগিদে তারা পেশা বদল করেছেন। তাই আগের মতো আর করাতিদের গাছ কাটার দৃশ্য চোখে পড়ে না। 

জানা যায়, একসময় পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার প্রায় গ্রামেই করাতি সম্প্রদায়ের লোকজন বসবাস করত। শুষ্ক মৌসুম এলেই তারা দল বেঁধে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘাঁটি করে গাছ চেরাই করত। ঐ সময় গাছ কাটতে হলে করাতিদের অপেক্ষায় থাকতে হতো গৃহস্থালিদের। কাঠ চিরতে আকার ও প্রকারভেদে বর্গফুট হিসেবে মজুরি নিতেন করাতিরা। একটি মাঝারি সাইজের গাছ কাটা ও চিরানোতে এক-দেড় হাজার টাকা খরচ পড়ত। আর তাতে সময় লাগত তিন দিনেরও বেশি। বর্তমানে বিভিন্ন হাটবাজারের অগণিত করাতকল অতি কম খরচে অল্প সময়ের মধ্যে চাহিদামাফিক কাঠ চিরানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে আসবাবপত্রের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় যান্ত্রিক করাতকলের কদর বেড়েছে।

নাজিরপুর উপজেলার প্রবীণ করাতি মো. মোয়াজ্জেম জানান, ৫০ থেকে ৬০ বছর ধরে আমরা এ পেশার সঙ্গে জড়িত। আগে আমার বাবা এ কাজ করতেন। বাবার মৃত্যুর পর থেকে আমি এ কাজ করে আসছি। তবে শুধু এ পেশার ওপর নির্ভর করে টিকে থাকা এখন আর সম্ভব হচ্ছে না। 

ইত্তেফাক/এআই