খাদ্যের অনুষঙ্গ তরকারি উৎপাদনকারী উপজেলা হিসাবে পরিচিত চিরিরবন্দর। আর এ তরকারির একটি অনুষঙ্গ ফসল পানিকচু। চাষ করে অভাবের সংসারে ভাগ্য ফেরালেন কৃষক জিকরুল হক।
কচু চাষ করে সফল হয়ে বেশ ভালোই আছেন উপজেলার আলোকডিহি রাসডাঙ্গার মৃত আছান আলীর পুত্র মো. জিকরুল হক। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমিতে কচু চাষ করে নিজেকে পাল্টে দিয়েছেন তিনি। জিকরুল হক উপজেলার সফল পানিকচু চাষি। চলতি মৌসুমে সাড়ে ১২ শতক জমিতে কচুর চাষ করছেন তিনি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অনেকে জিরুল হকের কাছ থেকে চারা ও পরামর্শ নিয়ে পানিকচু চাষ
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জিকরুল হক কচু জমি থেকে তুলে বাজারজাত করার জন্য পরিস্কার করছেন। তিনি জানায়, আমি সাড়ে ১২ শতক জমিতে স্বল্প পরিসরে পানিকচু চাষ করছি। কচুর চারা রোপণের ২০ দিন পর পর ৬ মাস পর্যন্ত হালকা নিড়ানি দিতে হয়। কচু গাছের যখন তিন মাস বয়স হয় তখন গাছের গোঁড়ায় যে লতি বের হয় তা কেজি প্রতি খুচরা বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৪০ টাকা। সাড়ে ১২ শতক জমিতে আমি প্রায় লতি বিক্রি করেছি ৪ হাজার টাকা। কচু চাষ করতে তেমন বেশি মজুরি খরচ হয় না। কচু গাছের ৫ থেকে ৬ মাস বয়স সম্পূর্ণ হলে তা বাজারজাত করার উপযোগী হয়। বর্তমানে সময়ে বাজার মূল্য কম তাই প্রতিটি কচু পাইকারি মূল্য ১০ টাকা কচু বিক্রি শুরু করেছি। সাড়ে ১২ শতক জমিতে কচু চাষে মজুরি খরচ ও যাতায়াত খরচসহ মোট উৎপাদন খরচ হয় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত কচু বিক্রি হয়েছে ১২ হাজার টাকা ও আরো ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা বিক্রি হতে পারে। এতে চাষে লাভ হবে প্রায় ১০ হাজার টাকা।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জোহুরা সুলতানা বলেন, চিরিরবন্দরের অনেক এলাকায় বর্ষাকালীন সময়ে কচু চাষের যথেষ্ট উপযোগী। ইতিমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে দেশি কচুর পাশাপাশি আমরা লতিরাজকচু, মুখীকচু, পঞ্চমুখীকচু, ওলকচু, দুধকচু, মানকচুও শোলকচু নামে বেশ কয়েকটি উন্নত জাতের লাভজনক কচু চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি, পরামর্শ দিয়েছি।
